পথে নামবে না মুন্নিবাইয়ের রথ, তাই মন ভালো নেই পুরুলিয়ার
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পুরুলিয়া: সময়ের অন্তরে হাতবদল হয়েছে অবশ্যই । কিন্তু রয়ে গেছে পরম্পরা, রয়ে গেছে ইতিহাস, রয়ে গেছে ঐতিহ্য। শতাব্দীপ্রাচীন সেই রথ পথে নামছে না এবার। মন্দিরের ঘেরাটোপে পালিত হচ্ছে রথযাত্রা। সেখানে প্রবেশ নিষেধ। তাই মন ভালো
শেষ আপডেট: 23 June 2020 05:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পুরুলিয়া: সময়ের অন্তরে হাতবদল হয়েছে অবশ্যই । কিন্তু রয়ে গেছে পরম্পরা, রয়ে গেছে ইতিহাস, রয়ে গেছে ঐতিহ্য। শতাব্দীপ্রাচীন সেই রথ পথে নামছে না এবার। মন্দিরের ঘেরাটোপে পালিত হচ্ছে রথযাত্রা। সেখানে প্রবেশ নিষেধ। তাই মন ভালো নেই পুরুলিয়ার মানুষের।
উনবিংশ শতকের গোড়ার কথা। তখন কাশিপুর রাজপরিবারে নজরকাড়া জাঁকজমক। লখনৌ থেকে বাইজিরা আসতেন গান শোনাতে। তেমনই এসেছিলেন মুন্নিবাই। রাজপরিবারের বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছিল তাঁর রূপ ও কণ্ঠের খ্যাতি। আর লখনৌ ফিরে যাননি তিনি। থেকে গিয়েছিলেন কাশিপুরেই। পরবর্তী সময়ে ভাবনায় বদল আসে তাঁর। ধর্মপ্রাণ কিছু মানুষের সংস্পর্শে এসে আধ্যাত্মিক জগতের সঙ্গে নিবিড় যোগ তৈরি হয় তাঁর। পরবর্তীতে মনমোহিনী বৈষ্ণবী নামে পরিচিতি পেয়েছিলেন তিনি। পুরুলিয়া শহরে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন রাধাগোবিন্দ জিউ মন্দির। তার তত্ত্বাবধানেই রথযাত্রা শুরু হয়েছিল পুরুলিয়া শহরে। সে রথ এখনও মুন্নিবাইয়ের রথ নামেই পরিচিত।
মনমোহিনী বৈষ্ণবীর মৃত্যুর পর সে রথের দায়িত্ব পান পুরুলিয়া শহরের চকবাজারের নন্দলাল কয়াল দত্ত পরিবার। ৯৯ বছর ধরে এই পরিবারের তত্ত্বাবধানেই পরিচালিত হচ্ছে রথযাত্রা। মহা ধূমধামে রথের দিন শোভাযাত্রা বের হয়। কাতারে কাতারে মানুষ আসেন রথের দড়িতে টান দিতে। কিন্তু এবছর করোনা পরিস্থিতিতে অন্যান্য জায়গার মতো রথযাত্রা বন্ধ এখানেও। পরিবারের সদস্য শচিদুলাল দত্ত বললেন, ‘‘সত্তর বছর বয়স আমার। এমন পরিস্থিতি আগে কখনও দেখিনি। রথের দিন রাধাগোবিন্দ জিউ রথে চড়বেন না ভাবতে পারছি না। সকাল থেকে মন্দিরে আচার মেনে পুজোটুকুই শুধু হচ্ছে। এই মুন্নিবাইয়ের রথ এবার পথে নামবে না ভেবে পুরুলিয়ার মানুষের মন খারাপ। আমরা সেই কষ্টেরই শরিক। কিন্তু মানুষের নিরাপত্তার কথা ভেবে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ছাড়া অন্য কোনও উপায় আমাদের ছিল না। তাছাড়া প্রশাসনের অনুমতিও এবার মিলত না।’’

পুরুলিয়া শহরের নামোপাড়ায় রাখা থাকে এই ঐতিহ্যবাহী রথ। রথযাত্রার আগে প্রত্যেক বছর বাইরে এনে সাজিয়ে-গুছিয়ে তোলা হয়। এবার আর বার করা হয়নি সেই রথ। বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে উদ্যোক্তারা রথের গায়ে ঝুলিয়ে দিয়েছেন ব্যানার। সাধারণ মানুষ সবকিছু মেনে নিলেও রয়ে গেছে খেদ। অনেকেই বলছেন, করোনা পরিস্থিতি মাথায় রেখে রথের শোভাযাত্রা না হয় নাই হল কিন্তু রথটা বার করে তো একটু সাজিয়ে তোলা যেত। বছরের দিনে মুন্নিবাইয়ের রথের গায়ে ধুলো দেখে দুঃখ বাড়ছে আরও।