দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: জোগান নেই। তাই বাইরে থেকে চড়া দামে কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস কিনতে হচ্ছে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সার্জারি বিভাগে ভর্তি হওয়া রোগীর পরিজনদের। তবেই হচ্ছে অপারেশন।
সার্জারির জন্য প্রয়োজন হয় এই কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এই গ্যাসের সাতটি সিলিণ্ডার রয়েছে। প্রতিটি সিলিণ্ডারে পাঁচ কেজি করে গ্যাস থাকে। এই দিয়েই বর্ধমান হাসপাতালে সার্জারি বিভাগে প্রয়োজনীয় কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস সরবরাহ করা হয় । কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই এই সাতটি সিলিণ্ডারই সম্পূর্ণ ফাঁকা হয়ে গিয়েছে। ফলে প্রয়োজনীয় গ্যাস পাচ্ছেন না রোগীরা। অপারেশনের আগে বাইরে থেকে এই গ্যাসের সিলিণ্ডার কিনে আনতে হচ্ছে।
হাসপাতালের নিউ বিল্ডিংয়ে সার্জারি বিভাগে ভর্তি থাকা হাটগোবিন্দপুরের বাসিন্দা স্বপন মালিক জানান, মঙ্গলবার তাঁর হার্নিয়া অপারেশন হয়। সোমবার সকালে কার্বন গ্যাসের সিলিণ্ডার বাইরে থেকে কিনে আনার জন্য বলা হয় তাঁকে। তিনি আটশো টাকা দিয়ে এই গ্যাসের সিলিণ্ডার কিনে আনার পরে তবেই তারঁ অস্ত্রোপচার হয়েছে।
ওই বিভাগে ভর্তি থাকা বর্ধমান শহরের শাঁকারিপুকুরের বাসিন্দা রূপম বাগের গলব্লাডার স্টোন অপারেশন হওয়ার কথা। তাঁর পরিবারকেও বাইরে থেকে গ্যাস সিলিণ্ডার কিনে আনার কথা বলা হয়েছে। ওই ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা হুগলি জেলার বৈঁচির রাজু হালদার, অনীশ রায়দের বক্তব্য, তাঁদেরও অপারেশন করার জন্য বাইরে থেকে গ্যাস কিনে আনতে বলা হয়েছে। রোগীর পরিজনদের অভিযোগ, আর্থিক সঙ্গতি না থাকায় বিনামূল্যে চিকিৎসা করার জন্যই তাঁরা হাসপাতালে এসেছেন। সেখানে বাইরে থেকে গ্যাস কেনার জন্য টাকা খরচ করতে হচ্ছে। দ্রুত এই গ্যাস সরবরাহ করার দাবি জানিয়েছেন রোগীর পরিজনরা৷
বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সুপার প্রবীর সেনগুপ্ত বলেন, ‘‘গ্যাসের সিলিণ্ডারগুলি ভর্তি করার অর্ডার পাঠানো হয়েছে। আশা করছি দু-একদিনের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।’’