দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা ট্রান্সফারের নাম করে একটি সাইবার কাফের মালিকের সঙ্গে অভিনব প্রতারণার ঘটনা ঘটল গুসকরা শহরে। টাকা আছে বলে জানিয়ে একটি ব্যাগ সাইবার কাফে মালিকের হেফাজতে রেখে দু'দফায় ৫০ হাজার টাকা নিজের অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করে নিয়ে চম্পট দিয়েছে প্রতারক। পরে ব্যাগ খুলে দেখা যায় তার মধ্যে ভরা রয়েছে কিছু খড়-বিচালি ও একটি ছেঁড়াফাটা জ্যাকেট।
প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরেই গুসকরার ওই সাইবার কাফের মালিক কুণাল চট্টোপাধ্যায় পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
গুসকরার কলেজ মোড়ে কুণালবাবুর একটি সাইবার কাফে রয়েছে। তিনি জানান বুধবার দুপুর দু’টো নাগাদ বছর ৩৫ এর এক যুবক তাঁর দোকানে আসে। মুখে মাস্ক লাগানো ছিল তার। হাতে ছিল একটি ব্যাগ। ওই যুবক কুণালবাবুর কাছে এসে জানায় তার গাড়ি আটকে আছে। এখনই একটি অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতে হবে। ওই যুবক প্রথমে তাঁর কাছে জানতে চান একলক্ষ টাকার ফান্ড ট্রান্সফার হবে কিনা। তিনি জানান ৭০- ৭৫ হাজার টাকার বেশি পাঠানো সম্ভব নয়। তখন তাতেই রাজি হয়ে যায় ওই ব্যক্তি।
কুণালবাবু বলেন, ‘‘ওই ব্যক্তি আমার কাছে আসার পর ব্যাগটি টেবিলের তলায় রেখে বলে এতে টাকা আছে। তারপর তাড়াহুড়ো করতে থাকে। আমি প্রথম দফায় ২৫ হাজার টাকা ফান্ড ট্রান্সফার করি। তারপর দ্বিতীয় দফায় ২৫ হাজার টাকা ফান্ড ট্রান্সফার করতেই ওই ব্যক্তির ফোনে রিং হলে ফোন কানে দিয়ে উঠে দরজার কাছে যায়। তখন দোকানে আরও লোক ছিল। তাই নজরে পড়েনি। অল্প কিছুক্ষণ পরেই খেয়াল করি লোকটি পালিয়ে গিয়েছে। ব্যাগটা পড়ে রয়েছে।’’
কুণালবাবু এরপর ব্যাগটি খুলে দেখেন তার মধ্যে কিছু খড় বিছালি ভরা রয়েছে। ওপর দিকে রয়েছে একটি ছেঁড়া জ্যাকেট। প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরেই কুণালবাবু তড়িঘড়ি ব্যঙ্কের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর গুসকরা পুলিশ ফাঁড়িতে অভিযোগ জানান। ব্যাঙ্ক সূত্রে জানা গিয়েছে যে অ্যাকাউন্টে কুণালবাবুর ৫০ হাজার টাকা পাঠিয়ে প্রতারিত হন সেটি মঙ্গলকোট থানার শীতলগ্রামের এক বাসিন্দার। যদিও ৫০ হাজার টাকার মধ্যে ততক্ষণে ২০ হাজার টাকা এটিএমের মাধ্যমে তুলে নেয় প্রতারক।
পুলিশ জানিয়েছে, গোটা ঘটনার তদন্ত করছেন তাঁরা। শীঘ্রই অপরাধীদের পাকড়াও করা হবে।