দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: লকডাউনের জন্য বন্ধ স্কুল কলেজ। কিন্তু কতদিন বন্ধ রাখা যায় পড়াশোনা, গান বা নাচ শেখা? তাই অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই চালু করেছে অনলাইন ক্লাস। বর্ধমানের কালনা কলেজ আগেই হেঁটেছে সে পথে। একইভাবে বর্ধমান শহরের বিভিন্ন স্কুল এবং নাচের স্কুলেও শুরু হয়ে গেল অনলাইন ক্লাস।
নবাবহাটের কাছে একটি বেসরকারি ইংরেজী মাধ্যম স্কুলে লকডাউনের পরেই শুরু হয়েছে অনলাইন ক্লাস। বোর্ডের পরীক্ষা সামনের বছর। তাই দশম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের এই ক্লাস করানো শুরু হয়ে গেছে। প্রতিদিনই চলছে ক্লাস হচ্ছে। স্কুলের প্রিন্সিপাল সুশান্ত কুমার ঘোষ বলেন, গত সাতদিন ধরে বাড়িতে বসেই ক্লাস করছে ছাত্ররা। টিচারদের বাড়িতে বোর্ড পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে মোবাইলে ইন্সটল করা হয়েছে বিশেষ অ্যাপস। বাড়িতে মোবাইলের ওই অ্যাপ অন করে ক্লাস করাচ্ছেন শিক্ষক শিক্ষিকারা। নিজেদের বাড়িতে বসে অভিভাবকদের মোবাইলে সেই পড়া শুনছেন পড়ুয়ারা। কী পড়ানো হচ্ছে তা দেখতে পারছেন অভিভাবকরাও।
বর্ধমানের জাতীয় সড়কের পাশে একটি বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলেও শুরু হয়েছে অনলাইন ক্লাস। শুধুমাত্র দশম শ্রেণির জন্যই। সোম থেকে শুক্রবার চার ঘণ্টা করে চারটি বিষয়ের ক্লাস হচ্ছে। স্কুলের ডিরেক্টর রাজেশ সুরানা বলেন, ‘‘এই অন লাইন ক্লাস রেকর্ড করা থাকছে। কোনও ছাত্র যদি ক্লাস মিস করে, তাহলে সে পরবর্তীকালে এই ক্লাস শুনে নিতে পারবে। শহরের আরও কয়েকটি স্কুলও এই পথে।
শুধু পড়া নয়, অনলাইন ক্লাস হয়েছে বর্ধমানের নাচের স্কুলেও। লকডাউনের আগে থেকেই বন্ধ ছিল ক্লাস। যদি শেখানো জিনিস ভুলতে বসে ছাত্রছাত্রীরা, সেই ভাবনাতে সপ্তাহে চারদিন বিভিন্ন গ্রুপের শিক্ষার্থীদের অনলাইনে ক্লাস করাচ্ছে শহরের একটি প্রতিষ্ঠিত নাচের স্কুল। হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে নাচের স্টেপ বা ফিটনেস শেখাচ্ছেন শিক্ষক শিক্ষিকারা। আর বাড়িতে বসে তা প্র্যাকটিস করছে ছাত্রছাত্রীরা। নৃত্যশিল্পী সৌরভ দাস, সৌমি দত্ত রায় বলেন, ‘‘একইসঙ্গে গ্রুপে ছাত্রছাত্রীদের কিছু ড্যান্স চ্যালেঞ্জ দেওয়া হচ্ছে, সেটা বাড়িতেই প্র্যাকটিস করে গ্রুপে পোস্ট করছে সবাই। ফলে একদিকে যেমন চর্চা বজায় থাকছে, তেমনই মনও থাকছে ফুরফুরে।