দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: রেলের এলাকা ঘিরতে গিয়েছিলেন রেলের আধিকারিকরা। তাতেই বিপত্তি। অভিযোগ খবর পেয়েই সেখানে ছুটে গেলেন শাসকদলের শ্রমিক সংগঠনের নেতা কর্মীরা। রেলের জায়গা হলেও তা ঘেরা যাবে না বলে দাবি করলেন সংগঠনের নেতা কর্মীরা।
সোমবার বর্ধমান রেল স্টেশন সংলগ্ন তিনকোনিয়ার দিকে গুড শেড রোডের তরকারি বাজারের সামনে ঘেরার কাজ শুরু করে রেল কর্তৃপক্ষ। বর্ধমান স্টেশনের আধিকারিক ও ভারতীয় রেল সুরক্ষা বাহিনীর বর্ধমান শাখার উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের উপস্থিতিতে চলছিল রেলিং দিয়ে ঘেরার কাজ। খবর পেয়ে দলবল নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠনের নেতা ইফতিকার আহমেদ।
তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের এই নেতা দাবি করতে থাকেন, এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ স্টেশনে প্রবেশ করেন ও বের হন। সেই প্রবেশ পথ বন্ধ করে দেওয়া হলে সাধারণ মানুষ ভীষণভাবে অসুবিধার মধ্যে পড়বেন। তিনি বলেন, অনেক সময় দূরপাল্লার ট্রেন থেকে যাত্রীরা বড় লাগেজ নিয়ে নামেন বর্ধমান স্টেশনে। তারপর শহরের বাইরের বাসিন্দারা টোটো বা রিকশা করে বাসস্ট্যান্ডে যান বাস ধরতে। এখন এইভাবে রেল রেলিং দিয়ে জায়গা ঘিরে ফেললে টোটো বা রিকশা কিছুই ঢুকতে পারবে না স্টেশন চত্বরে। ফলে যাত্রীরা সমস্যায় পড়বেন।
রেলিং দিয়ে ঘেরার সময়ে উপস্থিত ছিলেন স্টেশন ম্যানেজার স্বপন অধিকারী, ভারতীয় রেল সুরক্ষা বাহিনীর বর্ধমান রেঞ্জের অ্যাসিস্ট্যান্ট সিকিউরিটি কমিশনার অসীম মণ্ডল ও বর্ধমান স্টেশনের পূর্ত দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা। তাঁরা জানান, রেল চাইছে রেলের নিজস্ব জায়গা ঘিরে নিতে। কারণ এই জায়গা দিয়ে অবৈধ ভাবে বহু মানুষ যানবাহন নিয়ে স্টেশনে প্রবেশ করেন। ফলে যাত্রীদের অসুবিধা হয়। রেল সুরক্ষা বাহিনীর বর্ধমান রেঞ্জের অ্যাসিস্ট্যান্ট সিকিউরিটি কমিশনার অসীম মণ্ডল বলেন, ‘‘রেল কর্তৃপক্ষ এবং শ্রমিক সংগঠনের মধ্যে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এই স্থান দিয়ে যাতে ছোট গাড়ি প্রবেশ করতে পারে সেই রকম ব্যবস্থা রাখা হবে। আর বাকি জায়গা রেলিং দিয়ে ঘিরে নেবে রেল।’’
করোনা রুখতে লকডাউন শুরু হওয়ার পর প্রথম পর্যায়ে বর্ধমান স্টেশনে বেশ কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা স্টেশন চত্বরে ভবঘুরেদের জন্য দিনরাতের খাবারের ব্যবস্থা করেছিল। তখন তৃণমূল কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠনের দাপুটে নেতা ইফতিকার আহমেদ ওই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্মীদের মারধর করে বলে অভিযোগ ওঠে। সেই জল গড়ায় অনেক দূর। তার পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্য নেতৃত্ব মাসখানেক আগে তাঁকে শোকজও করে।