দ্য ওয়াল ব্যুরো, দক্ষিণ ২৪ পরগনা : সদ্যোজাত এক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠল ক্যানিংয়ের একটি নার্সিংহোম। যথেচ্ছ ভাঙচুর চালানো হয় ওই নার্সিংহোমে। নার্সিংহোমের চিকিৎসক, মালিক ও অন্যান্য কর্মীদের মারধের করা হয়েছে বলে অভিযোগ। ৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
রবিবার রাতে প্রসব যন্ত্রণা ওঠায় ক্যানিং বাজার এলাকার পেট্রোল পাম্প সংলগ্ন নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয় এক মহিলাকে। । ক্যানিংয়ের ডেভিড সেশুন হাইস্কুল পাড়ার বাসিন্দা কৃষ্ণা হালদার ওই রাতেই একটি পুত্রসন্তান প্রসব করেন। সিজার করে প্রসব করানো হয়েছিল। কিন্তু সদ্যোজাত শিশুর অবস্থা সংঙ্কটজনক হওয়ায় তাকে তখনই অন্যত্র স্থানান্তরিত করার পরামর্শ দেন নার্সিংহোমের চিকিৎসকরা। এরপরেই সংঙ্কটজনক অবস্থায় সদ্যজাত শিশুকে তার পরিবারের লোকজন কলকাতায় একটি নার্সিংহোমে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। তবে কৃষ্ণাদেবীকে ওই নার্সিংহোমেই রাখা হয়।
সোমবার কলকাতার নার্সিংহোমে শিশুটির মৃত্যু হয়। অভিযোগ মঙ্গলবার রাতেই কৃষ্ণাদেবীর পরিবারের লোকজন আচমকা ক্যানিংয়ের নার্সিংহোমে চড়াও হয়ে ভাঙচুর শুরু করেন। মারধর করা হয় নার্সিংহোমের ডাক্তার ও অন্যান্য কর্মীদের। এমনকী খবর পেয়ে নার্সিংহোমের মালিক ঘটনাস্থলে এলে তাঁকেও হেনস্থা করা হয়। এরপরেই ভর্তি থাকা কৃষ্ণাদেবীকে নিয়ে বাড়ি চলে যান তাঁরা। কেন নার্সিংহোমে ভাঙচুর করলেন সে ব্যাপারে তাঁদের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
নার্সিংহোমের মালিক প্রদীপ নাথ বলেন “প্রসূতি এই নার্সিংহোমে ভর্তি ছিলেন। তিনি সুস্থ। তাঁর সদ্যজাত সন্তানের অবস্থা সংঙ্কটজনক হলে কলকাতায় রেফার করে দেন এখানকার চিকিৎসকরা। সেখানে শিশুটির মৃত্যু হয়। আমাদের চিকিৎসার কোনও খামতি ছিল না। তবুও বিনা কারণে আমাদের নার্সিংহোমে এসে ভাঙচুর চালানো হল। মারধর করা হল আমাদের। চিকিৎসককের গাড়ি ভাঙচুর করা হল। এখানকার ফার্মাসি ভাঙচুর করে টাকাপয়সাও লুঠপাট করে নিয়ে গিয়েছে ওরা।” তাঁর বক্তব্য, এখানে যে সদ্যোজাতর শিশুদের জন্য এনআইসিইউর ব্যবস্থা নেই তা জেনেই সিজারে সম্মতি দিয়েছিল ওই প্রসূতির পরিবার। শিশুটির শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় সঙ্গে সঙ্গে তাকে কলকাতায় রেফারও করে দেওয়া হয়।
কৃষ্ণাদেবীর চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক রাজশেখর সরকার জানিয়েছেন “প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে গত দু’দিন আগে ওই মহিলা এখানে ভর্তি হয়েছিলেন। এখানেই সিজার হয়। জন্মের পর শিশুটির শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। এখানে এনআইসিইউর ব্যবস্থা না থাকায় তাকে কলকাতায় রেফার করা হয়। সেখানে একদিন চিকিৎসার পর শিশুটি মারা যায়।তারপরেই ওরা এই নার্সিংহোমে এসে ভাঙচুর শুরু করে।’’
এই ঘটনায় নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ মানস হালদার, বিজন হালদার, সানি পাল, তপন জানা ও লতিফ মোল্লা নামে পাঁচজনের বিরুদ্ধে ক্যানিং থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে ক্যানিং থানার পুলিশ।