দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: কোভিড সংক্রমণে বিশ্বজুড়ে ত্রাহি ত্রাহি রব। এই পরিস্থিতিতে অন্য রোগ নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগীর সংখ্যা মারাত্মক হারে কমেছে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। কমেছে ভর্তি থাকা রোগীর সংখ্যাও। যাতায়াতের সমস্যা, করোনার ভয় ও সচেতনতা সব মিলিয়েই হাসপাতালমুখো হচ্ছেন না অনেকেই। এমনটাই ধারণা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।
হাসপাতালের তথ্য জানাচ্ছে, ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে ১,১৪,৩৩২ জন, মে মাসে ১,১১,১৭১ জন, জুন মাসে ৮৮,৯৭১জন, জুলাই মাসে ১,৩৩,০৬৭ জন বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আউটডোরে চিকিৎসা করাতে এসেছিলেন। এপ্রিল, মে, জুন, জুলাই মাসে ভর্তি হয়েছিলেন যথাক্রমে ১২,১৬০, ১২,৬৯৬, ১১,১৭৬ ও ১৩,৫৯৫ জন।
সেখানে ২০২০ সালে এপ্রিল মাসে আউটডোরে চিকিৎসা করাতে আসেন ২৫.৩৪৫ জন, মে মাসে ২৭.৯৬৯ জন, জুন মাসে ৫৯.৫৫৮, জুলাই মাসে ৫৫.৬৬১ জন। সেখানে চলতি বছরে এপ্রিল, মে, জুন ও জুলাই মাসে অন্যান্য রোগে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৫২৬৫, ৫৯৭৩, ৭৬৪৬ ও ৮৫১০ জন।
রোগীর সংখ্যা ব্যাপক হারে কমে যাওয়ার জন্য একাধিক বিষয় আছে বলে মনে করেন হাসপাতল কর্তৃপক্ষ। প্রথমটাই হল যাতায়াত ব্যবস্থা। মার্চ মাস থেকে দেশে করোনার প্রকোপ শুরু হয়। মহামারী রুখতে মার্চ মাসের শেষদিক থেকে শুরু হয় লকডাউন। টানা তিনমাস স্তব্ধ ছিল গোটা দেশ। আনলক পর্ব চালু হওয়ার পরেও এখনও দাপট কমেনি করোনার। তাই রাজ্যে পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি গণপরিবহণ ব্যবস্থা। এখনও বন্ধ রয়েছে ট্রেন চলাচল।
বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দুই বর্ধমান ছাড়াও বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, হুগলির একাংশ থেকে রোগীরা চিকিৎসা করাতে আসেন। এমনকি ঝাড়খণ্ড ও বিহার থেকেও অনেকে এই হাসপাতালে আসেন। কিন্তু এখন যানবাহন না মেলায় এইসব জায়গা থেকে রোগীরা হাসপাতালে আসতে পারছেন না। এছাড়াও সংক্রমণের ভয়েও অনেকেই হাসপাতালে আসতে চাইছেন না বলে মনে করছেন ডাক্তাররা। ক্রমাগত প্রচারের ফলে এই রোগের সংক্রমণ নিয়ে এখন মানুষের সচেতনতা অনেকটাই বেড়েছে। তাই একান্ত প্রয়োজন ছাড়া এখন আর হাসপাতালে আসছেন না কেউ। সব মিলিয়েই হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা এখন অনেকটাই কমে গেছে বলে জানাচ্ছেন ডাক্তাররা।
বর্ধমান হাসপাতালের সুপার প্রবীর সেনগুপ্ত বলেন, ‘‘বিভিন্ন বিষয় এই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত। যানবাহনের সমস্যা, ভীতি সব মিলিয়েই রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। একান্ত অসুবিধায় পড়লে তবেই যে কোনও উপায়ে হাসপাতালে আসছেন তাঁরা। না হলে অন্যভাবে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছেন। করোনার প্রকোপা দূর না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি এমনই থাকবে বলেই মনে হচ্ছে।’’