দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম বর্ধমান: দিলীপ ঘোষ-অর্জুন সিংয়ের উপস্থিতিতে সভা হওয়ার কথা ছিল দুর্গাপুরের পলাশডিহাতে। সেখানে বিজেপিতে যোগদানের কথা ছিল বেশ কয়েকজনের। তাঁদের মধ্যে যেমন রয়েছেন তৃণমূলের নেতা কর্মীরা, তেমনই রয়েছেন এলাকার কিছু কয়লা ব্যবসায়ীও। আর সেই সভা ঘিরেই ধুন্ধুমার বাঁধল। মারধর, চেয়ার ছোড়াছুড়ি বাদ রইল না কিছুই।
স্থানীয় কয়েকজন কয়লা ব্যবসায়ীর বিজেপিতে যোগদান ঘিরেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সভা। বিজেপির কিছু কর্মী নেতা কর্মী দাবি করতে থাকেন এলাকার কয়লা মাফিয়াদের কিছুতেই বিজেপিতে যোগ দেওয়ানো যাবে না। এই নিয়ে সভামঞ্চেই শুরু হয় হয় বচসা। হাতাহাতি বেধে যায় দু’তরফের। চেয়ার ছোড়াছুড়ি শুরু হয়। ঘোরালো হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। উপস্থিত নেতারা বারবার মাইকে কর্মীদের শান্ত হতে বলেন। তখনও অবশ্য এসে পৌঁছননি দিলীপ ঘোষ।
বিজেপির স্থানীয় এক নেতা রাজু শ্যাম দাবি করতে থাকেন, এলাকার কয়লা মাফিয়াদের দলে ঢোকানো হচ্ছে। এটা কিছুতেই মেনে নেবেন না তাঁরা। তিনি বলতে থাকেন, ‘‘আমরা অনেকদিন ধরে দল করি। এই দলে কোনও কয়লা মাফিয়া আসুক, এটা মেনে নেব না।’’
বিজেপির জেলা সভাপতি লক্ষ্মণ ঘড়ুই অবশ্য ভাঙচুরের ঘটনা অস্বীকার করেছেন, তিনি বলেন, ‘‘একটা বচসা হয়েছে শুনেছি। আমি খোঁজ নিয়ে দেখেছি। আমাদের পার্টি শৃঙ্খলাপরায়ণ। কেউ হয়তো ভুল বুজেছে। আমরা বসে ঠিকঠাক করে নেব। তৃণমূলের থেকে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। সভা বানচাল করার জন্য ইন্ধন দিচ্ছে ওরা।’’
তৃণমূলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অবশ্য অস্বীকার করেছেন আসানসোল-দুর্গাপুর ডেভলাপমেন্ট অথরিটির চেয়ারম্যান তাপস ব্যানার্জি। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের দলের কোনও কর্মীর এ সব করার ফুরসত নেই। বিজেপি তো কয়লা মাফিয়াদের দলে ঢোকানোর জন্য একটা ওয়াশিং মেশিন কিনে রেখেছে। তাদের দিয়ে দল চালাবে।’’
একপ্রস্থ গন্ডগোলের পরে অবশ্য দিলীপ ঘোষ ও অর্জুন সিংয়ের উপস্থিতিতে সভা শুরু হয়।