দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: চা বাগানে চলছে লাস্ট ফ্ল্যাশ। তাই বাম কংগ্রেসে এবং বিজেপির ডাকা বন্ধে সাড়া দিল না চা বলয়। বন্ধকে উপেক্ষা করে দিনভর চা পাতা তোলা সহ অন্যান্য কাজ করলেন চা শ্রমিকরা।
একদিকে কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন কৃষক সংগঠনগুলির ডাকা ভারত বন্ধ এবং অন্যদিকে গতকাল উত্তরকন্যা অভিযানে গিয়ে পুলিশের লাঠির আঘাতে উলেন রায়ের মৃত্যুর প্রতিবাদে বিজেপির ডাকা ১২ ঘন্টার উত্তরবঙ্গ বনধে বিশেষত উত্তরবঙ্গের জনজীবন স্তব্ধ। এদিন সকাল থেকে রাস্তায় নামে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মীরা। তাঁরা মিছিল করে। ঝান্ডা লাগিয়ে বন্ধ করে দেয় দোকান পাট। যানবাহন আটকে দেয়।
এদিনের বনধে জনজীবনে প্রভাব পড়লেও বন্ধের প্রভাব পড়েনি জলপাইগুড়ি সহ ডুয়ার্সের চা বলয়ে। চা বনিকদের সংগঠন ডিবিআইটিএ এবং আইটিপিএ সুত্রে জানা গেছে তাদের সদস্য সমস্ত চা বাগানেই কাজকর্ম স্বাভাবিক হয়েছে। কিছু কিছু চা বাগানের গেটে ঝান্ডা লাগানো থাকলেও কাজকর্ম ছিল স্বাভাবিক।
এদিন দেশের সেরা জলপাইগুড়ি ডেঙ্গুয়াঝাড় চা বাগানে কর্মীদের উপস্থিতির হার ছিল ১০০%। বাগানে চা পাতা তোলা-সহ অন্যান্য কাজ ছিল স্বাভাবিক। চা বাগান সংলগ্ন ডেঙ্গুয়াঝাড় বাজার বন্ধ থাকলেও চা বাগানের ভেতর বন্ধের তেমন কোনও প্রভাব লক্ষ করা যায়নি। চা শ্রমিক বুধিয়া মুন্ডা বলেন, ‘‘আমরা জানিই না আজ হরতাল। আমরা গরীব লোক। কাজ না করলে আমরা খাব কী? আমাদের চা বাগান খোলা আছে। সবাই কাজে এসেছে।’’
ডিবিআইটিএ এর সচিব সঞ্জয় বাগচী জানান, তাঁদের সদস্য ৮৮ টি চা বাগানে কাজকর্ম স্বাভাবিক ভাবে চলছে। বিজেপি যুব মোর্চার জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি পলেন ঘোষ বলেন, ‘‘চা শ্রমিকরা আমাদের সঙ্গে রয়েছেন। সোমবার রাতে চা বাগানগুলিতে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে তৃণমুল নেতারা গিয়ে শ্রমিকদের হুমকি দিয়েছে যদি তারা আজকে কাজে যোগ না দেয় তবে বাগান থেকে তাদের আর কাজ দেওয়া হবে না। কাজ হারানোর ভয়ে তারা কাজে যোগ দিয়েছেন।’’ যদিও বিজেপির এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তৃণমূল নেতারা।
ডেঙ্গুয়াঝাড় চা বাগানের সিনিয়র ম্যানেজার জীবনচন্দ্র পান্ডে বলেন, ‘‘আমাদের চা বাগান খোলা। ১০০% শ্রমিক কাজ করছে। এমনিতেই চা শিল্পে মন্দা। তারউপর লকডাউনের প্রভাবে চা শিল্পে আরও মন্দা। রাজ্যে একমাত্র বড় শিল্প চা বাগান। ঘন ঘন বনধ উদ্যোগের পক্ষে ভাল নয়।’’
ডিসেম্বর মাসের ১৫ তারিখ পর্যন্ত চা বাগানে উইন্টার ফ্ল্যাশ বা লাস্ট ফ্ল্যাশ চলে। এরপর বন্ধ হয়ে যাবে চা পাতা তোলার কাজ। ১৫ তারিখ থেকে শুরু হবে চা বাগান পুর্নিং এর কাজ। অর্থাৎ ওই সময় চা গাছ ছেটে ফেলে দেওয়ার পাশাপাশি গাছের পরিচর্যা করা হয়। সেই সময় সাধারণত বাগানের স্থায়ী শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করানো হয়। কাজ হারায় প্রচুর অস্থায়ী শ্রমিক। তাই শেষ বাজারে নিজের উপার্জন নিশ্চিত করে নিতে মরিয়া চা শ্রমিকরা।