দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে এবারও বন্ধ হল মাহেশের রথযাত্রা। করোনা পরিস্থিতি ও লকডাউনের জেরে জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিল মাহেশ জগন্নাথ ট্রাস্টি বোর্ড।
এবছর মাহেশের রথযাত্রার ৬২৫ বছর। আগে ছিল কাঠের রথ। পরবর্তীতে তৈরি করা হয় লোহার রথ। মার্টিন বার্ন কোম্পানির তৈরি সেই লোহার রথের বয়স ১৩৬ বছর। করোনা অতিমারি পরিস্থিতিতে গত বছরেও স্থগিত রাখা হয়েছিল রাজ্যের এই ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা। এবারেও রথযাত্রার পুরোপুরি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মাহেশ জগন্নাথ মন্দিরের সেবাইত পিয়াল অধিকারী বলেন, ‘‘মাহেশে রথযাত্রা দেখতে বহু মানুষের সমাগম হয়। সেখানে সামাজিক দূরত্ব বিধি মানা অসম্ভব। মানুষের নিরাপত্তার কথা ভেবে করোনা পরিস্থিতিতে রথযাত্রা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।’’
তিনি জানান, আগামী ২৪ শে জুন জগন্নাথের স্নানযাত্রা উৎসব। সেই স্নানযাত্রা স্নানপিড়ির মাঠে হয় এবার তা হবে জগন্নাথ মন্দিরেই। ১২ জুলাই রথযাত্রা উৎসব। ওইদিন জগন্নাথ মন্দিরের পাশে অস্থায়ী ভাবে মাসির বাড়ি করা হবে। প্রথা মেনে সেখানেই থাকবেন জগন্নাথ-বলভদ্র ও সুভদ্রা। সেখানেই পূজা অর্চনা হবে রীতি মেনে। শুধুমাত্র নারায়ন শিলাকে মাসির বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে পদব্রজে। তার আগে রথের পাশে সাত পাক ঘোরানো হবে নারায়ণ শিলা। পুজো হবে রথের।
মাহেশের রথের উচ্চতা ৫০ ফুট। লোহার বারোটি চাকা। মাহেশের রথযাত্রা ভারতের দ্বিতীয় প্রাচীনতম রথযাত্রা। জগন্নাথ মন্দিরের সামনে যে মাঠ সেই মাঠে প্রতি বছর মেলা বসে। এ বছর সে মেলাও বসবে না। তাই মনখারাপ সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের।
কোভিডের কারণে এবারও পুরীতেও লোকসমাগম ছাড়াই অনুষ্ঠিত হতে চলেছে রথযাত্রা উৎসব। এমনটাই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওড়িশা সরকার। গত বছরেও পুরীর রথযাত্রায় কোনও পূণ্যার্থী হাজির থাকতে পারেননি। করোনার কারণে তখন লকডাউন চলছিল দেশ জুড়ে। এ বছর করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। তাই বিশাল জনসমাগমের অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয় একেবারেই। ওড়িশা সরকারের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, রথের সময় পুরীতে কার্ফু জারি থাকবে। বাড়তি জনসমাগম যাতে না হয় সে কারণেই এই ব্যবস্থা বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।