দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: করোনা পরিস্থিতিতে এবার বর্ধমানের নির্মল ঝিল শ্মশানে সরকারি বিধিনিষেধ। পুরসভা নির্দেশিকা জারি করেছে, এখন থেকে নির্মল ঝিলে রাত ১০ টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত কোনও মৃতদেহ দাহ করা যাবে না। আসলে প্রতিদিন হয় জেলার কোভিড হাসপাতালে অথবা বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সারি ওয়ার্ডে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীরা মারা যাচ্ছেন। সেই সব মৃতদেহ সৎকার করা হচ্ছে নির্মল ঝিলে। বর্ধমান পুরসভার সচিব জয়রঞ্জন সেন বলেন, ‘‘রাত ১০টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত শুধুমাত্র করোনায় মৃতদের দেহগুলি সৎকার করা হবে। সেই কারণে ওই সময়ে অন্য কোনও মৃতদেহ সৎকার করা হবে না।’’ শ্মশানে ঢোকার রাস্তায় পুরসভার পক্ষ থেকে ফ্লেক্স টাঙিয়ে জনগণকে এ ব্যাপারে সজাগ করা হয়েছে।
রাজ্যে করোনার গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী। গোটা পূর্ব বর্ধমান জেলায় প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা। বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও।
বর্ধমানের কোভিড হাসপাতাল ও বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সারি ওয়ার্ডে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কোনও রোগী মারা গেলে তাঁকে দাহ করা হচ্ছে বর্ধমানের নির্মল ঝিল শ্মশানে। গত ২৪ ঘণ্টায় বর্ধমান শহরে করোনায় দু'জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনও পর্যন্ত জেলায় কোভিডে মৃতের সংখ্যা ২৫।
সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী করোনায় আক্রান্ত হয়ে কোনও রোগী মারা গেলে মৃতদেহ পরিবারের হাতে দেহ হচ্ছে না। পুলিশ প্রশাসন ও পুরসভা সেই মৃতদেহ সৎকার করছে। বর্ধমান পুরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডে নির্মল ঝিল শ্মশান। জনবহুল এলাকায় এই শ্মশান। তাই সাধারণ মানুষের যাতে কোনও সমস্যা না হয় তার জন্য গভীর রাতে কোভিডে আক্রান্ত হয়ে মৃতদের দেহগুলি সৎকার করা হচ্ছে। তবে পুরসভার এই নয়া নির্দেশকায় ওই এলাকায় তো বটেই গোটা শহরে বেশ চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
এমনিতেই বর্ধিষ্ণু শহর বর্ধমান। নির্মল ঝিলে সারাদিনই সৎকারের জন্য আনা হয় বহু শবদেহ। দু'টি চুল্লির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস চুল্লিটি বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে। ফলে গোটা চাপটাই পড়ে বৈদ্যুতিক চুল্লির উপর। এছাড়া প্রতি সপ্তাহে শুক্রবার বর্ধমান মেডিকেল কলেজের পুলিশ মর্গে জমে থাকা অজ্ঞাতপরিচয় মৃতদেহ গুলির সৎকার করা হয়। তার উপর করোনায় আক্রান্তদের দেহ সৎকারের জন্য রাত দশটা থেকে ভোর পাঁচটা পর্যন্ত অন্য কোনও দেহ দাহ করা যাবে না বলে নির্দেশ জারি হওয়ায় বেশ অসুবিধায় পড়ে গিয়েছেন শহরের মানুষ।