দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: এখানে শহরের পথে নামে না রথ। মন্দির চত্বরে রথের রশিতে টান দিয়ে পুণ্য অর্জন করেন মানুষ। এ বার আর সে সুযোগ পেলেন না কেউ। তবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে প্রথা মেনে পুজো হল বর্ধমান রাজপরিবারের লক্ষ্মীনারায়ণ জিউ মন্দিরে।
রাজপরিবারের রীতি মেনে মঙ্গনবার সকালে প্রথমে হল লক্ষ্মীনারায়ণ জিউর পুজো। তারপর গোপালজির পুজো। এরপর রাজপরিবারের পূর্ব পুরুষদের স্মরণ করে অনুষ্ঠিত হয় রথের বিশেষ পুজো। জানালেন মন্দিরের পুরোহিত উত্তম মিশ্র।
রাজপরিবারের লক্ষ্মীনারায়ণ জিউ মন্দিরের রথযাত্রা শুরু হয় মহতাবচন্দের (১৮৩২-৭৯) আমলে। সে-সময়ের নিয়ম মেনে কাঞ্চননগরের রথযাত্রা হত বিকেলে আর লক্ষ্মীনারায়ণ জিউ বাড়ির রথযাত্রা হত সকালে। রাজ-আমলে ছিল রুপোর রথ। সেই রথে বসানো হত নারায়ণ শিলা। পরবর্তীকালে নারায়ণ শিলা বসানো হয় কাঠের রথে এবং পিতলের রথে বসানো হয় গোপাল মূর্তি। দু’টি রথই থাকে মন্দির চত্বরে। প্রতিবছর রথের পুজো সেরে সকালেই শুরু হয় রথযাত্রা। মন্দির চত্বরেই ঘোরানো হয় রথ। পুণ্যলাভের আশায় রথের দড়িতে টান দিতে আসেন সারা শহরের মানুষ। এ সময় গমগম করে মন্দির চত্বর। এ বার ছবিটা সম্পূর্ণ অন্য।
১৯৮৪-র ১০ অক্টোবর প্রয়াত হন উদয়চন্দ। জমিদারি উচ্ছেদের পরেও সেই সময় পর্যন্ত লক্ষ্মীনারায়ণ জিউ মন্দিরের রথের উৎসবে জাঁকজমক ছিল নজরকাড়া। কিন্তু পরবর্তীকালে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ফিকে হয়ে যায় উৎসবের রঙ। এখন রাজ ঐতিহ্য বাঁচিয়ে রেখেছেন জেলার বাসিন্দারাই। রাজবাড়ির রথের দিন মেলাও বসে। মেলা চলে সাতদিন। প্রচুর মানুষের সমাগম হয় সেখানে। শুধু বর্ধমান শহর নয়, গোটা জেলা, এমনকি ভিন জেলার বহু মানুষও রাজবাড়ির রথে জমায়েত হন।
এবার করোনা পরিস্থিতিতে ভিড় এড়াতে রথের উৎসব ম্নান সর্বত্রই। লক্ষ্মীনারায়ণ জিউ মন্দিরের ট্রাস্টি বোর্ডও সপ্তাহ দু'য়েক আগেই রাজবাড়ির রথের উৎসব বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তাই আজ সকাল থেকেই শুনশান। শুধুমাত্র নিয়ম মেনে পুজো হল মন্দিরে। হাতেগোনা মানুষের উপস্থিতিতে। মূল ফটক বন্ধ থাকায় মন্দিরে ঢুকতে পারলেন না ভক্তরা।
প্রবীণ শহরবাসীরা বলছেন, রাজার আমলে বহু দুর্যোগ- খরা- বন্যায় লক্ষ্মীনারায়ণ জিউ মন্দিরে রথের পুজো বা উৎসবে কোনওদিনই ভাটা পড়েছে বলে শোনেননি তাঁরা। এবার তাতে ছেদ পড়ল। ছেদ পড়ল রাজ ঐতিহ্যে।