মামিনুল ইসলাম, মুর্শিদাবাদ: রাজ্যে কাজ নেই। পেটের টানে তাই কেরলে চলে গিয়েছিলেন মোশারফ হোসেন। এর্নাকুলামে একটি কাপড়ের দোকানে কাজ করতেন। প্রায় ১৭ বছর ধরে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে থাকতেন সেখানেই। বছরে-দু’বছরে হয়তো একবার ফিরতেন ডোমকলের বাড়িতে।
ডোমকলের বাড়িতে আছেন মোশারফের বাবা-মা। শনিবার সকালে তাঁরা জানতে পারেন এর্নাকুলামে গ্রেফতার হয়েছে তাঁদের ছেলে। পরে টিভিতে দেখেন আল-কায়দা জঙ্গি সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁদের ঘরের ছেলে মোশারফকে। তারপর থেকেই ভেঙে পড়েছেন তাঁরা। তাঁদের কথায়, ‘‘জানতাম ছেলে সেখানে কাপড়ের দোকানে কাজ করে। ও কি আদৌ জঙ্গিদের দলে ভিড়েছে? এখানে বসে কিছুই তো বুঝতে পারছি না।’’
অনেকদিন ধরেই আল-কায়দার ইন্টার স্টেট মডিউল অপারেটিভদের উপর নজর রেখেছিল ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি বা এনআইএ। অবশেষে জাল গুটিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ এবং কেরলের এর্নাকুলাম থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে মোট ৯ জনকে। এর্নাকুলাম থেকে যে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে তারাও প্রত্যেকেই মুর্শিদাবাদেরই বাসিন্দা। কেউ ডোমকলের, কেউ জলঙ্গির। রাজ্যে কাজ না থাকায় ভিনরাজ্যে কাজ করত এরা। ধৃত ন’জনই দেশজুড়ে নাশকতার পরিকল্পনায় যুক্ত বলে অভিযোগ এনআইএর।
ডোমকলের রানিনগরের বাসিন্দা আম্বিয়া বিবির একমাত্র সন্তান মুর্শিদ হাসান। তাকেও এর্নাকুলাম থেকেই গ্রেফতার করেছে এনআইএ। আম্বিয়া বিবি জানান, বছর দেড়েক আগে রাজমিস্ত্রির কাজ করতে কেরলে গিয়েছিল তাঁর ছেলে। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের অবস্থা খুবই খারাপ। তাই এখানে কাজ না পেয়ে বাইরের রাজ্যে চলে গিয়েছিল ও। ওখানে কাজ করে বাড়িতে টাকা পাঠাত। আমি কিছুই জানতাম না। পাড়ার লোকের কাছে আজ শুনছি ওকে পুলিশে ধরেছে।’’ গলা বুজে আসে বৃদ্ধার।
সাড়ে তিন বছর আগে ভিনরাজ্যে রাজমিস্ত্রির কাজ করতে যায় জলঙ্গির বাসিন্দা ইয়াকুব বিশ্বাস। এর্নাকুলাম থেকে তাকেও গ্রেফতার করেছে এনআইএ। নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগ রয়েছে জলঙ্গির মধুবনা গ্রামের বাসিন্দা ইয়াকুবের বিরুদ্ধেও। অবিবাহিত ইয়াকুবের বাবা-মা সহ গোটা পরিবার থাকে গ্রামে। কাজের সূত্রে এর্নাকুলামে থাকলেও ছুটিছাটায় বাড়ি আসত ইয়াকুব। জানালেন তার বাবা-মা। ছেলে কী কবে জঙ্গি হল! কারণ হাতরাচ্ছেন তাঁরা।
জঙ্গিযোগে এই তিন পরিযায়ী শ্রমিকের গ্রেফতারের খবরে অবাক তাদের গোটা মহল্লাও।