দ্য ওয়াল ব্যুরো, দার্জিলিং: বিনয় তামাং–অনীত থাপারা যখন পাহাড়ে শান্তির জন্য নবান্নে বৈঠক করলেন, তখনই তাঁদের অনুগামীদের আস্ফালন দেখল দার্জিলিং। মঙ্গলবার দার্জিলিংয়ে শক্তি প্রদর্শনের ডাক দিয়েছিল গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার নেতা বিনয় তামাং–অনিত থাপা গোষ্ঠী। এদিন দুপুরে দার্জিলিং রেল স্টেশনের সামনে থেকে শুরু হয় তাঁদের র্যালি। হাজার হাজার মানুষের মিছিল গিয়ে শেষ হয় দার্জিলিংয়ের চক বাজারে। সেখানে সভায় বক্তব্য রাখেন বিনয়পন্থী এক ঝাঁক নেতা।
বিনয় তামাং ও অনিত থাপাই যে পাহাড়ের অবিসংবাদি নেতা, তাঁদের অনুগামীদের বক্তব্যে বারেবারেই ঘুরে ফিরে এল সেই বক্তব্য। বক্তারা বললেন, বিনয়-অনীতের নেতৃত্বেই পাহাড়ে শান্তি ফিরেছে। সুতরাং পাহাড়বাসীকে তাঁরাই নেতৃত্ব দেবেন।
তখন নবান্নতে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করছেন মোর্চানেতা বিনয় তামাং। শেষে গোর্খাভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বিমল গুরুঙকে নিয়ে ঠিক কী কী আলোচনা হয়েছে, সেই অবশ্যম্ভাবী প্রশ্নের মুখেই পড়তে হয় বিনয় তামাংকে। উত্তরে তামাংয়ের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া ছিল, ‘‘কে বিমল গুরুং, ওকে এত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে কেন?" এরপরেই বলেন পাহাড়ে শান্তি রক্ষার বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে, জিটিএ-র কাজকর্ম নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিমল গুরুংয়ের চ্যাপ্টার পুরোপুরি শেষ।
কিন্তু পাহাড় তখন উল্টোকথা বলছে। হেমন্তের শেষবেলায় মিরিকে রীতিমতো সরব বিমল গুরুংয়ের অনুগামীরা। গুরুং পাহাড়ে ফিরলে তাঁকে স্বাগত জানাতে তৈরি গোটা পাহাড়। এমনটাই বারবার জানাচ্ছেন তাঁর অনুগামীরা। গুরুংপন্থী নেতা বিজয় সুনদাস বলেন, ‘‘বিমল গুরুংই পাহাড়ের প্রকৃত নেতা। তিনিই পাহাড়ের মানুষকে এতকাল নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর ফেরার অপেক্ষায় রয়েছে গোটা পাহাড়।’’
ইউএপিএ ধারা সহ একাধিক মামলায় অভিযুক্ত বিমল গুরুং তিন বছর ধরে ফেরার ছিলেন। হঠাৎ পঞ্চমীর বিকেলে কলকাতায় তাঁর আবির্ভাব হয়। প্রথমে সল্টলেকের গোর্খা ভবনে দেখা যায় গুরুংকে। সেখানে ঢুকতে বাধা পেয়ে সোজা চলে যান বিবাদী বাগের হোটেলে। সন্ধেবেলা সেখানে সাংবাদিক বৈঠক করেন গুরুং। জানিয়ে দেন, বিজেপি তথা এনডিএ-এর সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করে দিয়েছেন তিনি। একুশে ফের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান বলে জানান। তৃণমূলও ঘটা করে স্বাগত জানান গুরুংকে।
এরপর থেকেই পাহাড়ের রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়। গুরুং বিরোধী বিনয়-অনিতরা প্রকাশ্যে কিছু না বললেও তাঁদের অনুগামীরা রাস্তায় নেমে পড়েন। ষষ্ঠীর দিন কালিম্পংয়ে পোস্টার পড়ে যায়, গুরুং পাহাড়ে এলে রক্তে ভাসবে তিস্তা। এর মধ্যেই গুরুংপন্থী নেতারা তৎপরতা শুরু করে দেন। টাকভোরে গোপন বৈঠকও সারেন তাঁরা।
এই পরিস্থিতিতেই আজ বিনয় তামাং-অনীত থাপাদের বৈঠকে ডাকেন মুখ্যমন্ত্রী। ভারসাম্য রক্ষার বার্তা দিতেই এই বৈঠক বলে ধারণা রাজনৈতিক মহলের। তবে আদতেই সেই ভারসাম্য রক্ষা হবে কি না সেটাই এখন পাহাড়ে কোটি টাকার প্রশ্ন। কারণ শীতের শুরুতেই ফের তেতে ওঠার আঁচ মিলছে শৈলশহরে। পাহাড়ের রাশ নিজেদের দখলে রাখতে দু’পক্ষই যে প্রস্তুতি নিচ্ছে তা দিনের আলোর মতোই পরিষ্কার। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে তৈরি রয়েছে প্রশাসনও।