দ্য ওয়াল ব্যুরো, শিলিগুড়ি: পাঁউরুটি, বিস্কুট, বাহারি কেক, হরেক স্বাদের চিপস। খাদ্য তালিকায় কি নেই? মানুষের দেওয়া খাবার খেয়ে নিজেদের জীবনধারণের অভ্যাসই একরকম বদলে গেছে সেবকের বানরদের। এই ঘটনায় রীতিমতো উদ্বিগ্ন পরিবেশপ্রেমীরা। এখন পর্যটক নেই। শুনশান সেবকের রাস্তা। তবে দল বেঁধে বসে থাকে তারা। খাবারের আশায়। এই লকডাউনের মধ্যেও কেউ কেউ গিয়ে তাদের খাবার দিয়ে আসেন।
শিলিগুড়ির অদূরে সেবক বাঘপুল বা সেবক করোনেশেন সেতু ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকা উত্তরবঙ্গের আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবেই চিহ্নিত। খরস্রোতা তিস্তা নদী বয়ে যায় নীচ দিয়ে। এই সেতুর আশেপাশেই ঘুরে বেড়ায় বানরের দল। মানুষ দেখলেই ছুটে আসে তারা। পর্যটকরাও সঙ্গে থাকা খাবার বিলি করে দেন। কেক, বিস্কুট, পাউরুটি, চিপস থেকে টোম্যাটো, কলা, মৌসুম্বি।
পশুপ্রেমীদের দাবি, কেক–বিস্কুট–চিপস এসব কৃত্রিম খাদ্য। এগুলো কী বন্যপ্রাণীদের খাবার হতে পারে? এইসব খাবার তাদের পাচনতন্ত্রে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। পরিবেশ ও পশুপ্রেমী অনিমেষ বসু বলেন, ‘‘এরা বন্যপ্রাণী। জঙ্গল থেকে খাবার সংগ্রহ করে আনাই এদের অভ্যাস। সেটাকে পাল্টে ফেলা হচ্ছে। এরফলে ওই বানরগুলো ক্রমশ অলস হয়ে পড়ছে। প্রজনন ক্ষমতাতেও ব্যাঘাত ঘটছে। পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এভাবেই। কিন্তু মানুষকে বুঝিয়ে কোনও কাজ হচ্ছে না।’’ বিশিষ্ট ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার সৌরভ চক্রবর্তী বলেন, ‘‘এটা এক ধরণের অপরাধ। বন্যপ্রাণীদের স্বাভাবিক জীবনে কখনও ব্যাঘাত ঘটানো উচিৎ নয়।’’
সোশ্যাল সাইটেও এর প্রতিবাদে সরব হয়েছেন অনেক স্বেচ্ছাসেবক। শিলিগুড়ির স্বেচ্ছাসেবী ডালিয়া রায় বলেন, ‘‘বন্যপ্রাণ সুরক্ষা আইন অনুযায়ী বন্যপ্রাণীদের কখনও খাবার দেওয়া উচিৎ নয়। পথকুকুর এবং বন্যপ্রাণীদের মধ্যে তফাৎ রয়েছে। এরা একশো শতাংশ খাঁটি প্রাকৃতিক জীব। কখনওই মানবজাতির প্রতি নির্ভরশীল নয়, আমরাই তাদের জোর করে খাবার দিয়ে স্বাভাবিক নিয়ম বা অভ্যাসকে বদলে দিচ্ছি। এখন তারাও এই খাবারের লোভে বন থেকে বেরিয়ে রাস্তায় ভিড় করে, গাড়ি দেখলে ছুটে যায় আর ক্ষতিগ্রস্ত হয় অনেক সময়, খেতে না দিলে আক্রমণেও উদ্যত হয়।’’
সালুগাড়া বনবিভাগের রেঞ্জার প্রদীপ কর চৌধুরী বলেন, ‘‘অনেক বারণ করা হয়েছে। কথা শোনেন না কেউ। লোকালয়ে বানর চলে এলে তাদের খাবার দেওয়া হয়। জল খাওয়ানো হয়। এটা করা উচিৎ নয়। তাতে বানররা বারবার লোকালয়ে আসার চেষ্টা করবে। খাবার না পেলে আক্রমণও করতে পারে। বাস্তবে বনের পশু বনেই ভাল।’’