দ্য ওয়াল ব্যুরো, কোচবিহার: ঠিকাদারি সংস্থা দিয়ে দল চালালে দলের সংগঠন কখনই মজবুত হতে পারে না। পিকের আই-প্যাক নিয়ে শুক্রবার দলকে এভাবেই বিঁধলেন তৃণমূল বিধায়ক মিহির গোস্বামী।
শুক্রবার নিজের কার্যালয়ে বসে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলছিলেন বিধায়ক। তখনই তিনি বলেন, ‘‘ঠিকাদার দিয়ে রাজনৈতিক দলের সংগঠন চালানো যায় না। দলের সংগঠন চলে নেতা ও কর্মীদের মিলিত সিদ্ধান্তে। সংগঠন শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে ঠিকাদার সংস্থাকে নিয়োগ করলে কখনই সংগঠন শক্তিশালী হয় না।’’
প্রশান্ত কিশোরের আই-প্যাক সংস্থার কাজ নিয়ে দলের বিধায়কের এমন সমালোচনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় রাজনৈতিক মহলে। এ মাসের ৩ তারিখে দলের সমস্ত পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের এই বিধায়ক।
তৃণমূলের জেলা ও ব্লক কমিটির তালিকা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই আরও অনেক জায়গার মতো কোচবিহারেও দলের অন্দরে শুরু হয় তুমুল বিক্ষোভ। জেলা কমিটি তৈরি নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়ায় দলের বিধায়কদের মধ্যেও। বিধায়কদের মতামত ছাড়াই জেলা কমিটি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মিহিরবাবু। কোচবিহার ১ নম্বর ব্লক দক্ষিণ বিধানসভার অন্তর্গত। তাই এখানকার বিধায়ক হিসেবে মিহিরবাবু যাঁদের নামের তালিকা পাঠিয়েছিলেন তাঁদের স্থান দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এরপরেই প্রেস বিবৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘দলীয় অনুশাসন অনুযায়ী সাংগঠনিক বিষয়ে বিধায়কদের প্রস্তাব মেনে নেওয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে তা লঙ্ঘন করা হয়েছে। কেবল ব্লক কমিটি নয়, জেলা কমিটি নিয়েও বিধায়কদের সঙ্গে কোনওরকম আলোচনা করা হয়নি। আমার মনে হচ্ছে দলে এখন আর আমার মতো মানুষ একেবারেই উপযুক্ত নয়। তাই সমস্ত সাংগঠনিক পদ থকে আমি অব্যাহতি নিলাম।’’
তিনি আরও অভিযোগ করেছিলেন, ‘‘এখন যাঁরা দলবিরোধী কাজ করছে তাঁরাই দলের নানা পদ অলঙ্কৃত করছেন। যে নীতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এতদিন দলনেত্রীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পথ চলেছি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনকভাবে এখন আর তা দলে নেই। স্বজনপোষণ ও গোষ্ঠী রাজনীতির চূড়ান্ত জায়গায় পৌঁছে যাওয়ার পর এখন এই দল থেকে আর আমার চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই।’’
নেত্রীর নির্দেশ পেলে বিধায়ক পদ থেকেও যে তিনি ইস্তফা দিতে তৈরি সে কথাও জানিয়ে দেন পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির এই নেতা। সম্প্রতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও প্রশান্ত কিশোর শিলিগুড়িতে এসে কোচবিহারের বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক করলেও সেই বৈঠকে যোগ দেননি মিহিরবাবু।