দ্য ওয়াল ব্যুরো, বাঁকুড়া: করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সারা দেশ জুড়ে সতর্কতা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আহ্বানে 'জনতা কারফিউতে’ সাড়া দিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে মানুষ গৃহবন্দি। তখন উল্টো ছবি ধরা পড়ল রাজ্যের মন্ত্রী অধ্যাপক শ্যামল সাঁতরার সৌজন্যে। যা নিয়েই ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক।
প্রতি রবিবার বাঁকুড়ার জয়পুরের ডিহা গ্রামে ‘জনতার দরবার’ করেন শ্যামলবাবু। তাঁর এলাকার মানুষজন নানা সমস্যা নিয়ে আসেন মন্ত্রীর কাছে। ‘জনতা কারফিউ’ চললেও সেই কর্মসূচি বজায় রাখলেন শ্যামলবাবু। জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে রাজ্য সরকারেরও। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বারবার মানুষকে সচেতন করছেন। সেখানে সব অমান্য করেই রবিবার সকালে ডিহা গ্রামের বাড়িতে জনতার দরবার করলেন শ্যামলবাবু। অসংখ্য মানুষ এদিন তাঁদের অভাব অভিযোগ নিয়ে স্থানীয় বিধায়কের কাছে যান।
এমন সংকট মুহূর্তে একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রীর জনতার দরবার নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে গোটা জেলায়। শ্যামলবাবুর অবশ্য যুক্তি, মানুষ সপ্তাহে একদিন তাঁর কাছে নানা দরকারে আসেন। তিনি তাঁদের সঙ্গে দেখা না করলে তাঁরা মুশকিলে পড়ে যাবেন। তিনি বলেন, ‘‘মানুষের চাহিদা থাকলে তা আমরা অস্বীকার করতে পারি না। সবসময় যথাসম্ভব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করি। আজও তাই করেছি। এ নিয়ে এত কথা কেন হচ্ছে বুঝতে পারছি না।’’
শ্যামলবাবু সমাজসেবার কথা বললেও তাঁর এই কর্মসূচিকে কটাক্ষ করে বাঁকুড়ার বিজেপি সাংসদ ডাঃ সুভাষ সরকার বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী নির্দেশিত জনতা কারফিউ কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়। করোনা প্রতিরোধে বিজ্ঞানসম্মত কর্মসূচি। সারা দেশের মানুষ একে মান্যতা দিয়েছেন। সমাজের সবার ভালোর জন্যই দিনটিতে জনসংযোগ না করলেই ভালো করতেন উনি। রাজনীতি করতে গিয়ে উনি করোনার সঙ্গে মিত্রতা করছেন।’’