
শেষ আপডেট: 14 April 2020 14:54
সরলা হাঁসদা, শান্তিমণি মুর্মুরা জানান, খেত মজুরির কাজ করতে গত মাঘ মাসে জামালপুরে মনিবের বাড়িতে এসেছিলেন তাঁরা। বোরো ধান রোয়া ও আলু তোলার কাজ শেষ হয়ে গেছে। বাড়ি ফেরার প্রস্তুতিও নেওয়া শুরু করে দিয়েছিলেন। তারই মধ্যে লকডাউন ঘোষণা হতেই চরম বিপাকে পড়ে যান। শান্তিমনি মুর্মু বলেন, ‘‘খেত মজুরির কাজ করে যে ক’টা টাকা রোজগার হয়েছিল তা এই ক’দিন বসে বসে খেয়েই শেষ হয়ে গেছে। এখন খিদে মেটানোর জন্য অন্ন জোগাড় করাই দায়। অন্যদিকে পুরুলিয়ার বাড়িতে থাকা সন্তানরাও সমস্যায় পড়েছে। কান্নাকাটি শুরু করেছে তারা।’’
সরলা হাঁসদা বলেন, ‘‘খাবার চেয়ে আর বাড়ি ফেরানোর ব্যবস্থা করে দেওয়ার আবেদন নিয়ে পঞ্চায়েতে গেছিলাম। কিন্তু শুনল না কেউ। মনিবরাও এখন আর দেখছে না। পুকুরপাড় থেকে তুলে আনা শাক সেদ্ধ করে, সামান্য চাল দিয়ে ফ্যান ভাত রান্না করে, কখনও আলু পুড়িয়ে খেয়ে কাটছে দিন।’’ দেশজুড়ে লকডাউনের মেয়াদ ৩ মে পর্যন্ত বাড়ানোর কথা মঙ্গলবারই ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তারপরেই তাঁদের চিন্তার মেঘ গাঢ় হয়েছে আরও।
ওই শ্রমিকদের এমন পরিস্থিতির কথা জানতে পেরেই জামালপুর ব্লকের বিডিও শুভঙ্কর মজুমদার বলেন, ‘‘ওই পরিযায়ী শ্রমিকদের এই অসহায়তার কথা আমাকে কেউ জানাননি। ওই শ্রমিকদের কাউকে যাতে অভুক্ত থাকতে না হয় তার জন্য যত দ্রুত সম্ভব ওঁদের কাছে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে।’’