
শেষ আপডেট: 16 September 2020 06:37
গোটা রাজ্যের মতোই শান্তিপুর শহরেও বাড়ছে করোনার দাপট। আর তা রুখতে একক উদ্যোগে পথে নামেন এই অঙ্কের শিক্ষক। তৈরি করেন করোনা প্রতিরোধ মঞ্চ নামে একটি সংগঠন। তাতে সামিল এলাকার কাজ হারানো পরিযায়ী শ্রমিকরা। লকডাউনের সময় ভিনরাজ্যে কাজ হারিয়ে তাঁরা যখন ঘরে ফিরে এসেছিলেন তখন তাদের সংসার সচল রাখার দায়ভার অনেকটাই স্বেচ্ছায় বহন করেছেন অপূর্ববাবু। এখন তাঁরাই অপূর্ববাবুর শহর সাফাই অভিযানের সৈনিক। বিনিময়ে তাঁদের হাতে সাধ্যমতো পারিশ্রমিক তুলে দিচ্ছেন এই অঙ্কের শিক্ষক। যাতে রেশনে পাওয়া চাল আর এই সামান্য টাকায় কোনওক্রমে এই পরিস্থিতিটা পার করতে পারেন তাঁরা।
ইতিমধ্যেই নিজের টাকায় শান্তিপুর শহরের চারটি রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাঙ্কে স্যানিটাইজেশন মেশিন বসিয়েছেন তিনি। স্যানিটাইজেশন মেশিন বসিয়েছেন শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালেও। এখন চলছে পাড়ায় পাড়ায় গলিতে গলিতে স্যানিটাইজেশনের কাজ। অপূর্ববাবুর কথায়, ‘‘এই শহরে ছোট থেকে বড় হয়েছি আমি। এখন কর্মসূত্রে কলকাতায় থাকলেও এই শহরের প্রতি দায় তো ঝেড়ে ফেলতে পারি না। তাই এই কঠিন পরিস্থিতিতে আমার শহর ভাল থাকুক, এখানকার মানুষরা সুস্থ থাকুক, সেই চেষ্টা করে যাচ্ছি।’’
এই উদ্যোগে অপূর্ববাবু পাশে পেয়েছেন তাঁর স্ত্রী মৌসুমী সাহা মিত্রকে। বাবার দেওয়া লাখ চারেক টাকাও এই কর্মযজ্ঞের জন্য স্বামীর হাতে তুলে দিয়েছেন তিনি। মৌসুমী বলেন, ‘‘যে কাজটা আমার স্বামী শুরু করেছেন তা চালিয়ে যেতে প্রচুর টাকা দরকার। তাই যেটুকু আমার পক্ষে করা সম্ভব তাই করলাম। ওঁর পাশে দাঁড়ালাম।’’
ইতিমধ্যেই ১৬ লক্ষ টাকা খরচ হয়ে গেছে তাঁদের। বেতনের টাকার যতটুকু না হলে সংসার অচল হবে সেটুকুই শুধু রেখে বাকি টাকা এই কাজে ব্যবহার করছেন। যতদিন না শান্তিপুর শহরে করোনা মুক্ত হচ্ছে ততদিন দূষণমুক্ত করার জন্য স্যানিটাইজার করে যাবেন বলে জানালেন ভবানীপুরের রামঋক ইনস্টিটিউশনের অঙ্কের শিক্ষক।