দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: যদি তাঁর মেয়েকে কামড়ে দেয় এই আশঙ্কায় তিনটি কুকুরছানাকে ছাদ থেকে ছুড়ে ফেলে দিল এক ব্যক্তি। একটি ছানার মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। বাকি দু’টি ছানার কোনও হদিস নেই। থানায় অভিযোগ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পরিবেশ কর্মীরা।
সোমবার বিকেলে এই ঘটনায় তুমুল চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জলপাইগুড়ি এসজেডিএ কমপ্লেকস এলাকায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় পরিবেশকর্মী অরিন্দম বিশ্বাস। তিনি পরিবারকে চেপে ধরতেই ক্ষমা চান ওই ব্যক্তির স্ত্রী। এরপর তিনি ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া একটি ছানার মৃতদেহ মাটিতে কবর দিয়ে আসেন।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে এসজেডিএ কমপ্লেক্স এলাকায় থাকা একটি পথ কুকুর সম্প্রতি ৫ টি ছানার জন্ম দিয়েছিল। এর মধ্যে ৩ টি ছানাকে বাড়িতে এনে লালন পালন করছিলেন এক বাসিন্দা। আজ দুপুরে মা কুকুরটি আচমকাই ওই ব্যাক্তির ঘরে ঢুকে যায়। এরপর তিনি কুকুরটিকে তাড়িয়ে দিয়ে ছানাগুলিকে নিয়ে চলে যান ছাদে। এরপর একে একে তিনটি ছানাকে ছাদ থেকে তিনি নীচে ছুড়ে ফেলে দেন বলে অভিযোগ। প্রতিবাদ জানালে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে বচসাও হয়।
অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘‘আমি মা কুকুর সহ তার ৫ টি ছানাকে নিয়মিত খাবার দিচ্ছিলাম। এরমধ্যে ৩ টি ছানাকে বাড়িতে নিয়ে আসি। আজ দুপুরে ওদের মা আমার ঘরে ঢুকে যায়। আমার ছোট মেয়ে রয়েছে। যদি তাকে কামড়ে দিত তখন কী হোতো। তাই আমি ওর মার কাছে ছানাদের ফিরিয়ে না দিয়ে ছাদ থেকে ছুড়ে দেই।’’
পরিবেশকর্মী অরিন্দমবাবু বলেন, ‘‘আমি গিয়ে দেখি একটি কুকুরছানার দেহ পড়ে আছে। কুকুরটি পাঁচটি ছানার জন্ম দিয়েছিল। আমি ওর মার সঙ্গে দুটি ছানাকে খুঁজে পাই। অনেক খুঁজে আরও দুটি ছানাকে পাইনি। একটি ছানাকে কবর দেই। এরপর তাদের সাথে কথা বললে তার স্ত্রী আমার কাছে ক্ষমা চায়। কিন্তু এভাবে অবলা জীবের নৃশংস খুন মেনে নেওয়া যায় না। আমি থানায় অভিযোগ দায়ের করব।’’
২০১৯ সালের ১৩ জানুয়ারি এনআরএস হাসপাতাল চত্বরে বড় বড় কয়েকটা কালো প্লাস্টিকের প্যাকেট পড়ে থাকতে দেখেন এক হাসপাতাল কর্মীর স্ত্রী। প্যাকেটগুলির পাশেই বসে ছিল একটি মা-কুকুর। পুতুলদেবীর সন্দেহ হওয়ায় তিনি উঁকিঝুঁকি দেন প্যাকেটগুলিতে। একটি খোলা মুখের ভিতরে কুকুরছানা দেখতে পান তিনি। কৌতূহলী হয়ে বাকি প্যাকেটের মুখগুলি খুলতেই দেখতে পান কয়েক সপ্তাহ বয়সের ১৬টি কুকুরছানা মৃত অবস্থায় বন্দি।
সে সময় প্রকাশ্যে আসে একটি নৃশংস ভিডিও। তাতে দেখা যায় কুকুরছানাগুলির মাকেই প্রথমে নিশানা বানিয়েছিল নার্সিংয়ের দুই ছাত্রী। তারপর একে একে নির্মম ভাবে পিটিয়ে মারে ১৬টি ছানাকে। এমন নৃশংস ঘটনায় শোরগোল পড়েছিল গোটা রাজ্যে। প্রতিবাদে গর্জে উঠেছিল সাধারণ মানুষ থেকে বিভিন্ন পশুপ্রেমী সংগঠন।
এই ঘটনায় ১৫ জানুয়ারি নার্সিংয়ের দুই পড়ুয়া মৌটুসি মণ্ডল ও সোমা বর্মনকে গ্রেফতার করে এন্টালি থানার পুলিশ। দফায় দফায় চলে জেরা। পুলিশের কাছে অপরাধ স্বীকারও করে নেয় মৌটুসি এবং সোমা। স্বাস্থ্য ভবনের নির্দেশে রাজ্য নার্সিং কাউন্সিল নতুন করে তদন্ত শুরু করে ওই দুই পড়ুয়ার বিরুদ্ধে।