শেষ আপডেট: 3 March 2020 13:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর দিনাজপুর : কালিয়াগঞ্জে সভা করতে এসে বিএসএফকে নজরদারিতে রাখার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিএসএফের বাড়াবাড়ি সহ্য করা হবে না বলেও হুমকি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
মঙ্গলবার উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জে প্রশাসনিক সভা করেন মুখ্যমন্ত্রী। সভা শেষ হয়ে যাওয়ার পর আচমকাই হাতে মাইক তুলে নিয়ে কথা বলতে শুরু করেন তিনি। কিন্তু মাইকের সুইচ অফ থাকায় কেউ তাঁর কথা শুনতে পারছিলেন না। এগিয়ে যান জেলাশাসক অরবিন্দকুমার মিনা। মাইক চালু হতেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিএসএফের বাড়াবাড়ি কিন্তু সহ্য করব না। গ্রামে ঢুকে কমিউনিটি প্রোগ্রাম করবে বিএসএফ, ওসিরা এগুলো নজর রাখুন। ল অ্যান্ড অর্ডার স্টেটের বিষয়। বিএসএফের কাজ বর্ডার দেখা। ওরা সেটাই করুক।” তারপরেই ফের মাইক রেখে দেন মুখ্যমন্ত্রী।
তার আগে সভামঞ্চ থেকে তিনি বলেন, “বহু মানুষ ঘর পায়নি বলে 'দিদিকে বলো' তে অভিযোগ জানিয়েছিলেন। আমাদের সরকার তাঁদের কথা চিন্তা করে কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গৃহহীন মানুষের জন্য আমরা ‘স্নেহালয়’ নামে একটি প্রকল্প চালু করছি। বর্তমানে চালু থাকা সরকারি আবাস প্রকল্পের বাইরে এই প্রকল্প। যে মানুষরা বাড়ির জন্য কোনওরকম আর্থিক সাহায্য পায়নি, তারা এই স্নেহালয় প্রকল্পের আওতায় আসবে। তাদের এককালীন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দেওয়া হবে। ‘জয় বাংলা’ নামে আর একটি প্রকল্প চালু করা হচ্ছে। তপশিলি সম্প্রদায়ের মানুষ যাদের ৬০ বছর বয়স হয়েছে, প্রতিমাসে এক হাজার টাকা করে পেনশন পাবেন। আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ যাদের ৬০ বছর বয়স হয়েছে, তারাও ‘জয় জোহার’ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিমাসে এক হাজার টাকা করে পেনশন পাবেন। সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় ‘কর্মসাথী’ নামে একটি প্রকল্প চালু করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতি বছর ১ লাখ বেকার যুবক ব্যবসা করার জন্য ২ লাখ টাকা করে অনুদান পাবেন। স্থানীয় বিডিও অফিসে সাদা কাগজে একটা দরখাস্ত করলেই হবে।’’
এ দিন দুপুর পৌনে একটা নাগাদ মালদহ থেকে হেলিকপ্টারে করে মমতা ব্যানার্জি কালিয়াগঞ্জ কলেজ মাঠে এসে পৌঁছান। প্রথমে পাবলিক ডিস্ট্রিবিউশন অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সেখানেই নতুন চারটি প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেন তিনি। এরপরে ওই মঞ্চের পাশেই সরকারি রিভিউ মিটিংয়ে অংশ নেন।
সেখানে পুলিশ প্রশাসনকে সব ধর্মের মানুষদের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের দিকে নজর রাখতে বলেন তিনি।