দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম বর্ধমান: বছর কয়েক আগে পেটের টানে পরিবার পরিজন ছেড়ে ওড়িশায় চলে গিয়েছিলেন মুস্তাফির হুসেন, আকবর আলিরা। সেখানে বিভিন্ন ধরনের সাজগোজের জিনিস ফেরি করে পেট চালাতেন মালদহ টাউনের বাসিন্দা এই যুবকরা। করোনার জেরে কাজ বন্ধ হওয়ায় ঘরে ফিরে আসছিলেন। ততক্ষণে লকডাউন হয়ে গেছে। তাই পায়ে হেঁটেই বাড়ির পথ ধরেছিলেন তাঁরা।
কিন্তু এই রাজ্যে ঢুকে কিছুটা পথ পেরোতেই আটকে দেয় পুলিশ। ওড়িশায় ফিরে যেতে বলে। কিন্তু ততক্ষণে ওড়িশায় ফিরে যাওয়ার পথও বন্ধ। পুলিশের ভয়ে দুই রাজ্যের সীমানার কাছে মুচিপাড়া জঙ্গলে গা ঢাকা দেন তারা। একদিকে ঘরে ফেরার কাতরতা, অন্যদিকে পুলিশের ভয়। তিনদিন জঙ্গলেই গা ঢাকা দিয়ে থাকেন তাঁরা। এই তিনদিনে পেটে পড়েনি একদানাও।
মঙ্গলবার এই খবর পৌঁছয় দুর্গাপুর নগর নিগমের বোরো চেয়ারম্যান চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। ওই জঙ্গলে ছুটে যান তিনি। অভুক্ত অবস্থায় থাকা মহসিন, রহমান আর তাঁদের বন্ধুদের জঙ্গল থেকে বাইরে নিয়ে এসে খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা করেন l ঘটনাস্থল থেকেই দুর্গাপুরের মহকুমাশাসককে ফোন করে ওই যুবকদের মাথা গোঁজার ঠাঁইও করে দেন।
জঙ্গল থেকে বেরোতে পারলেও আতঙ্কের তিন রাত এখনও পিছু ছাড়ছে না ওই যুবকদের। মুস্তাফির বলেন, ‘‘মনে হচ্ছিল এখানেই মরে যাব। কেউ জানতেও পারবে না। এক ফোঁটা জল নেই, কোনও খাবার নেই, সন্ধে নামতেই ছেঁকে ধরতো মশা। কাঁটা হয়ে থাকতাম সাপের ভয়ে। তবু পুলিশের ভয়ে জঙ্গলের বাইরে বার হওয়ার সাহস পাইনি।’’
মঙ্গলবার তাঁদের সাহায্য করতে আসা মানুষদের দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন তাঁরা। মহসিন রহমান বলেন, এখন মনে হচ্ছে আবার বাড়ি ফিরতে পারব। আবার সবাইকে দেখতে পাব। হয়তো এখন নয়, আরও কয়েক দিন পরে।’’
ঠিক হয়েছে আপাতত কোকওভেন থানার উল্টোদিকে একটি লজে থাকবেন মালদহের ওই যুবকরা। সেখানে তাঁদের খাওয়ানোর ব্যবস্থাও করা হয়েছে।