দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব মেদিনীপুর: ট্রেনে থাকা সিসিটিভির ফুটেজ চিনিয়ে দিল দুষ্কৃতীদের। কলকাতার ব্যবসায়ী হাসান আলী (৫২) খুনের রহস্য ভেদ করল পাঁশকুড়ার পুলিশ।
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে ৩৮৩১৩ আপ হাওড়া-মেচেদা লোকালের ভেতর একটি বড় লাল রঙের ট্রাভেল ব্যাগের ভেতর থেকে একটি মৃতদেহ উদ্ধার করে রেল পুলিশ। যাত্রীরা নেমে যাওয়ার পর কারশেডে চলে গিয়েছিল ট্রেনটি। রাত সাড়ে ১০ টা নাগাদ ট্রেনের কামরা পরিষ্কার করার সময় একটি বস্তা নজরে আসে সাফাই কর্মীদের। সেটি খুলতেই দেখেন বড় লাল রঙের একটি ট্রাভেলব্যাগ। ব্যাগটি খুলতেই আঁতকে ওঠেন সাফাইকর্মীরা। দেখতে পান ব্যাগের ভেতর মুড়ে রাখা রয়েছে এক যুবকের দেহ। পরনে সাদা রঙের জামা ও ছাই রঙের প্যান্ট। তখন পরিচয় জানা না গেলেও একদিনের মধ্যেই মৃত যুবকের পরিচয় বার করে রেল ও রাজ্য পুলিশ। জানা যায় বছর ৪৫ এর ওই ব্যক্তির নাম হাসান আলি। কলকাতার বিবি গাঙ্গুলি স্ট্রিটের বাসিন্দা। শুরু হয় খুনের তদন্ত।
মৃত যুবকের পরিবারের সূত্রে পুলিশ জানতে পারে, দিঘায় একটি হোটেল লিজে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন হাসান। বছরে ২১ লক্ষ টাকায় সেই লিজ নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছিল। হাসান ১৫ লক্ষ টাকা হোটেল মালিককে দিয়ে দিয়েছিলেন বলেও জানান তাঁরা। বাকি ৬ লক্ষ টাকা পৌঁছে দিতে তিনি দিঘা রওনা হয়েছিলেন। তবে ২৬ তারিখ গোটা দিন তাঁর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করতে না পেরে পুলিশে নিখোঁজ ডায়রি করেছিলেন হাসানের পরিবার।
তদন্ত করে পুলিশ জানতে পারে, এই লিজ লেনদেনের প্রক্রিয়ায় হাসানকে সাহায্য করছিল চারজন দালাল। পুলিশ অনুমান করে, তারাই প্রতারণা করে সমস্ত টাকা আত্মসাৎ করে খুন করে হাসানকে। কারণ হোটেল মালিকের কাছে কোনও টাকাই পৌঁছোয়নি।
এরপরেই অপরাধীদের ধরতে স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা শুরু করে পুলিশ। ঠিক কোন স্টেশন থেকে ব্যাগটি ট্রেনে তোলা হয়েছে সেটাও জানার চেষ্টা শুরু করে। এই ফুটেজ দেখেই মঙ্গলবার গ্রেফতার করা হয়েছিল খুনের মূল পান্ডা তৌহিজউদ্দিন সেখ ওরফে রাজু হালদারকে। ধৃতকে আদালতে তুলে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে রাতভর তল্লাশি চালিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে পাকড়াও করা হল রাজুর তিন সাগরেদ গৌতম জানা, দুর্গাশংকর সেনাপতি ও টোটো চালক প্রণব দাসকে। তাদের আজ তমলুক জেলা আদালতে তোলা হচ্ছে। ধৃতদের মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করলেই খুনের রহস্য সমাধান করতে তাঁরা সক্ষম হবেন বলে পুলিশ আধিকারিকদের আশা।