দ্য ওয়াল ব্যুরো, কোচবিহার: রথের দিন প্রথা মেনেই গুঞ্জবাড়িতে মাসির বাড়ি যাবেন মদনমোহনদেব। তবে এ বার আর রথে নয়, ঐতিহ্য ভেঙে তিনি সওয়ার হবেন চার চাকার গাড়িতে।
করোনা রুখতে দেশজুড়ে লকডাউন শুরু হওয়ার পর ধর্মীয় স্থানগুলিও বন্ধ করে দেওয়া হয়। আনলক পর্ব শুরু হতে একে একে খুলছে মন্দির মসজিদ ও গির্জার দরজা। তবে ভক্তদের ভিড়ে লাগাম টানতে রথযাত্রা বাতিল হচ্ছে সর্বত্রই। পুরীর মন্দির থেকে এবার আর বাইরে বের হবে না জগন্নাথদেবের রথ। আগেই জানিয়ে দেন মন্দির কর্তৃপক্ষ। ভিড় এড়াতে রথযাত্রা বাতিল হয়েছে মাহেশেও। একই পথে কোচবিহারের মদনমোহন মন্দিরও।
করোনার কারণে এবার সুসজ্জিত রথের বদলে চার চাকার গাড়িতে করে গুঞ্জবাড়িতে মাসির বাড়ি যাবেন কোচবিহারের কুলদেবতা মদনমোহনদেব। মদনমোহন মন্দিরের রাজপুরোহিত হীরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য জানান, রথের দিন নিয়ম মেনে সমস্ত পুজোআচ্চা হবে। তবে ভক্তদের ভিড় এড়াতে তাঁর কাঠের রথের দড়িতে টান পড়বে না এবার। তার পরিবর্তে সুসজ্জিত চার চাকার গাড়িতে করে মদনমোহনদেবকে নিয়ে যাওয়া হবে গুঞ্জবাড়িতে ডাঙ্গরাই মন্দিরে তাঁর মাসির বাড়ি।
তিনি বলেন, ‘‘প্রথা মেনে এই গাড়িতে লাগানো থাকবে একটি দড়ি। রাজপরিবারের দুয়ারবক্সি এই দড়িতে টান দেবেন। পরেই সুসজ্জিত চার চাকার গাড়ি মদনমোহনকে রওনা দেবে মাসির বাড়ির দিকে।’’ এ বার সেখানে ভক্তদের ভোগ নিবেদনের উপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। মন্দিরের প্রধান দরজা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। দূর থেকেই দর্শন করতে হবে ভক্তদের। রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে গুঞ্জবাড়িতে সাত দিন ধরে চলে মেলা। বর্তমান পরিস্থিতিতে এবার সেই মেলাও বন্ধ রাখা হয়েছে।
হীরেন্দ্রনাথবাবু বলেন, ‘‘আগামী বছর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার মদনমোহন কাঠের রথে চড়ে মাসির বাড়ি যাবেন। কিন্তু এ বার তাঁর ভক্তদের নিরাপত্তার কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত।’’