দ্বিতীয় দফায় ফের দরজা খুলল কোচবিহারের মদনমোহন মন্দিরের, স্বাস্থ্যবিধি মেনে খুলল তারাপীঠও
দ্য ওয়াল ব্যুরো, কোচবিহার: দীর্ঘ ৪০ দিন বন্ধ থাকার পর ভক্তদের জন্যে খুলে দেওয়া হল কোচ রাজবংশের কুলদেবতা মদনমোহনের মন্দির।
করোনা সংক্রমণ রুখতে মার্চ মাসে দেশজুড়ে শুরু হয় লকডাউন। সংক্রমণ এড়াতে কোচবিহার দেবোত্তর ট্রাস্ট বোর্ড ১৮ এপ্রিল থেকে ব
শেষ আপডেট: 24 August 2020 11:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো, কোচবিহার: দীর্ঘ ৪০ দিন বন্ধ থাকার পর ভক্তদের জন্যে খুলে দেওয়া হল কোচ রাজবংশের কুলদেবতা মদনমোহনের মন্দির।
করোনা সংক্রমণ রুখতে মার্চ মাসে দেশজুড়ে শুরু হয় লকডাউন। সংক্রমণ এড়াতে কোচবিহার দেবোত্তর ট্রাস্ট বোর্ড ১৮ এপ্রিল থেকে বন্ধ করে দিয়েছিল মন্দির। নিত্যপুজো হলেও সেখানে প্রবেশাধিকার ছিল না ভক্তদের। বাংলা নববর্ষের বিশেষ দিনেও বন্ধ ছিল মন্দির। বের হয়নি রথের শোভাযাত্রা। মোটরগাড়িকে রথ সাজিয়ে তাতে চেপে মাসির বাড়ি গেছেন মদনমোহনদেব। শর্তসাপেক্ষে ৯ জুলাই থেকে মন্দিরের দরজা খোলে সাধারণের জন্য। কিন্তু সংক্রমণ উর্ধ্বমুখী হওয়ায় ফের মন্দিরের দরজা দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এই দফায় প্রায় দেড় মাস বন্ধ থাকার পর ফের সোমবার থেকে ভক্তদের জন্য খুলে দেওয়া হল কোচবিহারের মদনমোহন মন্দির। সোমবার থেকে ভক্তরা মদনমোহন মন্দির ঢুকে পুজো দিতে পারবেন। তবে মদনমোহন মন্দিরে প্রবেশের ক্ষেত্রে বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কোচবিহার দেবোত্র ট্রাস্ট বোর্ড। মন্দিরের প্রধান পুরোহিত হীরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য জানান, মন্দিরে একসঙ্গে ১৫ জনের বেশি ভক্ত প্রবেশ করতে পারবেন না। মন্দিরে প্রবেশের সময় থার্মাল গান দিয়ে পরীক্ষা হওয়ার পর মন্দিরের মূল গেটে টোকেন সংগ্রহ করে ভক্তরা মন্দিরে ঢুকবেন।
তিনি বলেন, ‘‘মন্দিরের বারান্দায় উঠতে পারবেন না কোন ভক্ত। প্রতিদিন সকাল ১০ টা থেকে ১টা এবং বিকেল ৪টা থেকে ৭টা পর্যন্ত মন্দিরে ভক্তদের প্রবেশাধিকার মিলবে। অন্ন ভোগ দেওয়ার উপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।’’

কৌশিকী অমাবস্যার পর একগুচ্ছ স্বাস্থ্যবিধি মেনে সোমবার থেকে খুলল তারাপীঠ মন্দিরও। করোনা আবহে রকম সরকারি নিয়মকে মান্যতা দিয়েই খোলা হচ্ছে মন্দির। জানালেন মন্দির কর্তৃপক্ষ। মন্দিরে ঢোকার আগে মেটাল গানে শরীরে উত্তাপ মাপার পাশাপাশি স্যানিটাইজার টানেলে প্রবেশ করে শরীর জীবানমুক্ত হলে তবেই পুজোর লাইনে দাঁড়াতে পারবেন ভক্তরা। সেখানেও মানতে হবে দূরত্ব বিধি। গর্ভগৃহে প্রবেশ করে মা তারাকে পূজা দেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়াও কোনও রকম আলতা সিঁদুর ইত্যাদি নিয়ে মায়ের চরণ স্পর্শ করা যাবে না। শুধুমাত্র সেবাইতদের মাধ্যমে দূর থেকে মা তারাকে পুজো দিতে পারবেন ভক্তরা। ভোগ বিলিও বন্ধ।
মন্দির লাগোয়া হোটেল মালিক ও ছোটো বড় অন্যান্য ব্যবসায়ীদের করোনা সতর্কবিধি মেনে তবেই সামগ্রী বিক্রি কিংবা ঘরভাড়া দিতে বলা হয়েছে। দীর্ঘদিন পর আজ মন্দির খোলায় কিছুটা হলেও আশার আলো দেখছেন ব্যবসায়ীরা। যদিও সকাল থেকে মোটের উপর ফাঁকাই ছিল মন্দির চত্বর।