দিব্যেন্দু ভৌমিক, কোচবিহার: বিয়ে হোক আর অন্নপ্রাশন বা চাকরি প্রাপ্তি। কোচবিহারের মানুষের সব পাওয়া- না পাওয়া, আস্থা ও বিশ্বাসের সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছেন রাজাদের কুলদেবতা মদনমোহন দেব। বছরের প্রথমদিন তাই মদনমোহনদেবের আশীর্বাদ নিতে ভিড় উপচে পরে মদনমোহন ঠাকুর বাড়িতে। কিন্তু এবারে বিধি বাম। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে পয়লা বৈশাখ বন্ধ করা হয় মদনমোহন ঠাকুর বাড়ির মূল ফটক। নিষিদ্ধ হয় সাধারণের প্রবেশ।
১৯২৩ সাল। রাজ্যে সে বছর কলেরা মহামারীর রূপ নেওয়ায় কিছুদিনের জন্য বন্ধ ছিল কোচবিহার মহারাজাদের কুলদেবতা মদনমোহন দেবের মন্দির। বন্ধ ছিল রাসমেলাও। দীর্ঘ ৯৭ বছর মদনমোহন মন্দিরের দরজা আবার বন্ধ থাকল কোনও এক বিশেষ দিনে। বেশ কিছুদিন হল মূল গেটের বাইরে স্যানিটাইজার ব্যবহার করে ভক্তদের ঢুকতে হতো মন্দিরে। বন্ধ ছিল ভোগ বিলি। নিত্য পুজো চললেও বিশেষ আনাগোনা ছিল না ভক্তদের। কোচবিহার দেবোত্তর ট্রাস্ট বোর্ডের সদস্য তথা কোচবিহার সদর মহকুমা শাসক সঞ্জয় পাল জানান , ‘‘সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ । বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন প্রচুর মানুষ আসেন মন্দিরে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে এদিন মন্দিরের ভক্তবৃন্দের প্রবেশ বন্ধ রাখার নোটিস জারি করা হয়েছে । তবে মদনমদন দেব সহ অন্যান্য বিগ্রহের নিত্যপুজো-অঞ্জলি ও ভোগ হবে।’’
দেবোত্তর ট্রাষ্ট বোর্ডের এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েন সমাজের বিভিন্ন মহল। ইতিহাসবিদ ডঃ নৃপেন্দ্রনাথ পাল বলেন, ‘‘সময়চিত পদক্ষেপ। এর আগে কলেরার জন্য রাসমেলাওতো বন্ধ ছিল। মানুষ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরুক। মদনমোহনের কাছে এটাই প্রার্থনা।’’
কোচবিহার দেবোত্তর ট্রাস্ট বোর্ডের সভাপতি তথা কোচবিহারের জেলাশাসক পবন কাদিয়ান জেলাবাসীকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ‘‘মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থেই আজকের এই বিশেষ দিনে মন্দির বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’’