কোচবিহারের পদ্মদিঘিতে ফুলের ঢল, চমকে যাচ্ছেন রাজ-শহরের মানুষ
দিব্যেন্দু ভৌমিক, কোচবিহার : রাজ আমলের পদ্মদিঘি আবার স্বরূপে। বহু বছর পর। অন্য সময় কচুরিপানার মাঝে দু' চারটে পদ্ম ফুটে থাকে। এ বার দিঘির দিকে তাকিয়ে চোখে পলক পড়ছে না নগরবাসীর। ফোঁটা পদ্মে মুখ লুকিয়েছে দিঘির জল।
রাজপরিবারের অন্তঃপুরচারিণীদে
শেষ আপডেট: 15 May 2020 12:24
দিব্যেন্দু ভৌমিক, কোচবিহার : রাজ আমলের পদ্মদিঘি আবার স্বরূপে। বহু বছর পর। অন্য সময় কচুরিপানার মাঝে দু' চারটে পদ্ম ফুটে থাকে। এ বার দিঘির দিকে তাকিয়ে চোখে পলক পড়ছে না নগরবাসীর। ফোঁটা পদ্মে মুখ লুকিয়েছে দিঘির জল।
রাজপরিবারের অন্তঃপুরচারিণীদের বড় প্রিয় ছিল এই পদ্মদিঘি। ১৮৮৭ সালে মহারাজা নৃপেন্দ্রনারায়ণের রাজত্বকালে তৈরি হয়েছিল কোচবিহারের রাজবাড়ি। রোমের সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকার গথিকের আদলে। রাজপ্রাসাদের পশ্চিম দিকের পদ্মদিঘির টলটলে জলে ফুটে থাকত হাজার পদ্ম। আর সে দিঘির মনোরম পাড় ছিল রাজবাড়ির বাসিন্দাদের বড় প্রিয় জায়গা।
সময় এগিয়েছে। সবকিছুর সঙ্গে বদল এসেছে রাজার শহরেও। সেই পদ্মদিঘি এখন মৎস্য দফতরের অধীন। রাজপ্রাসাদের পাশে এবং রাজবাড়ি স্টেডিয়ামের পেছনে এই দিঘিতে লিজে মৎস্য চাষ হয় এখন। গত প্রায় দু’মাসের টানা লকডাউনে সব বন্ধ। তাই প্রকৃতির যেন ফুরসত মিলেছে একটু আপন খেয়ালে চলার। তাই অন্য সময় কচুরিপানার মাঝে দু' চারটে পদ্ম ফুটে থাকতে দেখা গেলেও, এবার পদ্মের ভিড়ে আড়াল হয়েছে দিঘির বিস্তীর্ণ জলরাশি।

শহরের পুরনো বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, পদ্মদিঘির পাশেই ছিল গোলাপদিঘি। সেই গোলাপদিঘি বুজে গেছে কবেই। দুই দিঘির মাঝে ছিল রাজাদের ঘোড়া রাখার বিশাল আস্তাবল। আর ছিল লিচু বাগান। বাগানের অস্তিত্ব এখন জানান দেয় হাতে গোনা কয়েকটি লিচু গাছ। শহরের ইতিহাসবিদ ডঃ নৃপেন্দ্রনাথ পাল বলেন, ‘‘পদ্মদিঘির পাশের রাজবাড়ির লিচুবাগান থেকে কবে বাজারে লিচু আসবে, তার জন্য রাজনগরের মানুষ অপেক্ষায় থাকতেন। নিমেষেই বিকিয়ে যেতো সব। আর অনেক দূর থেকে অর্থাৎ রাজপুরুষদের খেলার মাঠ থেকে দেখতাম পদ্মদিঘির ফুল। সেখানে আজ স্টেডিয়াম। জেনে ভাল লাগছে এত বছর পর আবার ফুলে মুখ ঢেকেছে পদ্মদিঘি।’’
রাজবাড়ি থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে থাকেন কবি সুবীর সরকার। বললেন, ‘‘ছোট থেকেই শুনেছি রাজপরিবারের মেয়েদের খুব প্রিয় ছিল পদ্মদিঘি। রাজবাড়ির বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য ওই দিঘি থেকেই জল আনা হত। শহরের অনেক ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে পদ্মদিঘির সঙ্গে। সেই পদ্মদিঘিতে এবার ফুলের সমারোহের খবর পেয়েছি। ভাল লাগছে খুব। আসলে প্রকৃতি দূষণ মুক্তির বার্তা দিচ্ছে।’’
আজ আর রাজা নেই কোচবিহারে। রাজত্বও নেই। তবে রাজ আমলের স্মৃতি আর আবেগ দুইই রয়ে গেছে। লকডাউনের অবসরে পদ্মদিঘিতে ফুলের বাহার ঘিরে সেই আবেগও যেন পাপড়ি মেলেছে।