দ্য ওয়াল ব্যুরো, শিলিগুড়ি: উমফানের দাপট দেখেনি উত্তরবঙ্গ। তাই তার আঘাতও এসে পড়েনি। কিন্তু মঙ্গলবার রাতে মাত্র কয়েক মিনিটের ঝড়ে তছনছ হয়ে গেল উঁচু গাছের ডালে ওদের সংসার। ঝড়ের তাণ্ডবে সদ্য চোখ ফোটা কিংবা পালক গজানো ছানাদের কেউ বাঁচেনি। তাদের আহত অভিভাবকদের উদ্ধার করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জখম পাখিদের আহত ডানায় কেউ বেঁধে দিয়েছেন ক্রেপ ব্যান্ডেজ। ভাঙা পায়ে লাগিয়েছেন ওষুধ কিংবা হলুদের গুঁড়ো।
মঙ্গলবার রাতের কালবৈশাখী ঝড়ে নকশালবাড়ির খেমচি, বাবুপাড়া, রায়পাড়া সহ বেশকিছু এলাকায় ভেঙে পড়েছে একাধিক বড় গাছ। বহু মানুষের ঘরের চাল উড়ে গেলেও সে ক্ষতি তাঁদের ভুলিয়ে দিয়েছে রাস্তায় পড়ে থাকা অসংখ্য আহত পাখির আর্তনাদ। ঝড় থামলে ঘর থেকে বেরিয়ে তাঁরা দেখেছেন বাসা ভেঙে মাটিতে পড়ে যাওয়া পাখির ছানাদের দেহ। ঝাঁকে ঝাঁকে এতো পাখি মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষনিকের জন্য নিজেদের ক্ষতি ভুলেছেন মানুষ। হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন ঠিকানা আর সন্তান হারানো অগুনতি বক-মাছরাঙাদের দিকে।
বিষয়টি যেমন ভাবিয়েছে পক্ষিপ্রেমীদের, তেমনই উদ্বিগ্ন স্থানীয় বাসিন্দারাও। কালবৈশাখী ঝড়ের পড়ে দমকল ও পুলিশ এসে স্থানীয়দের সহায়তা নিয়েই গাছপালা সরায়। আর তারপরেই দেখা যায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বহু পাখির দেহ। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই ছানা। ছানাকে ছেড়ে কিংবা বাসা ছাড়তে পারেনি যে পাখির দল, বেঘোরে মৃত্যু হয়েছে তাদের অনেকের। আবার অনেকেরই ভেঙেছে পা আর ডানা।
স্থানীয় পক্ষীপ্রেমী আর্য ঘোষ, বিক্রম ঘোষরা বলেন, কিছু আহত পাখিকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু অসংখ্য পাখি মারা গেছে যারা উড়তে শেখেনি। পাখিদের নিয়ে কাজ করা শিলিগুড়ির একটি পরিবেশপ্রেমী সংগঠনের অপটোপিকের আহ্বায়ক দীপজ্যোতি চক্রবর্তী বলেন, ‘‘ডিম ফুটে এই সময় পাখিদের বাচ্চা হয়। কয়েক মিনিটের ঝড়ের তাণ্ডবে সন্তানহারা হল ওরা। আকাশে ওড়ার আগেই ঝড়ের দাপটে এত পাখির এমন মৃত্যুতে আমরা বেদনাহত। গাছের মগডালে সব পাখির বাস ছিল। গাছগুলো ভেঙে যাওয়ায় এমন অবস্থা।’’