কেউ কিনছেন না ফুল, করোনার ধাক্কায় মাথায় হাত ফুলচাষিদের
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব মেদিনীপুর: করোনার আতঙ্ক। লকডাউন। খাবার জোগাড় করে এনে ঘরে মজুত করার ধুম। ফুলের খোঁজ আর কে রাখে? স্বভাবতই হাজার হাজার ফুল চাষির মাথায় হাত। ব্যাপক ক্ষতির মুখে পাঁশকুড়ার ফুলচাষিরা।
চন্দ্রমল্লিকা, গ্ল্যাডিওলাস, লাল ও বাস
শেষ আপডেট: 25 March 2020 12:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব মেদিনীপুর: করোনার আতঙ্ক। লকডাউন। খাবার জোগাড় করে এনে ঘরে মজুত করার ধুম। ফুলের খোঁজ আর কে রাখে? স্বভাবতই হাজার হাজার ফুল চাষির মাথায় হাত। ব্যাপক ক্ষতির মুখে পাঁশকুড়ার ফুলচাষিরা।
চন্দ্রমল্লিকা, গ্ল্যাডিওলাস, লাল ও বাসন্তী গাঁদা, গোলাপ, ধাক্কা সব চাষেই। করোনার প্রভাবে বিক্রিবাটা একদমই নেই। পাঁশকুড়ার নস্করদিঘি, শাঁকটিকরি, জানাবাড়- সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ফুল প্রায় নষ্টের মুখে। চন্দ্রমল্লিকা পার্সেল হয়ে হায়দরাবাদ, দিল্লি, মুম্বাই যেত। দুরপাল্লার ট্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ফুলের পার্সেলও যাওয়াও বন্ধ। আর তাতেই চাষিদের মাথায় হাত। ফুল চাষেই জীবিকানির্বাহ করেন এলাকার কয়েক হাজার পরিবার। লক্ষ লক্ষ টাকার ফুল বাগানেই নষ্ট হতে বসায় ঘুম ছুটেছে তাঁদের।

কুড়িটা গাঁদার মালা বিক্রি হয় দেড়শো থেকে দু’শো টাকায়। এখন পনেরো থেকে কুড়ি টাকাতেও কেউ কিনছে না বলে জানালেন ফুলচাষি রঘুনাথ জানা। তিনি বলেন, ‘‘করোনার জন্য কয়েক লক্ষ চাকা ক্ষতি হল আমাদের। কবে যে ঘুরে দাঁড়াতে পারব জানি না।’’
আরেক ফুলচাষি বলাই মাইতি বলেন, ‘‘নস্করদিঘি আড়তে নিলাম হতো গ্ল্যাডিওলাস। সেখান থেকে চলে যেত দিল্লি, মুম্বই, হায়দরাবাদ। এখন সব বন্ধ। কবে আবার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে সেটাই চিন্তা। এই ক্ষতি পূরণ হতে অনেক সময় লাগবে।’’
পাঁশকুড়ার বিভিন্ন ফুল নিলামকেন্দ্রেও বেচাকেনা বন্ধ করে দিয়েছেন ফুলের পাইকারি ব্যবসায়ীরা। প্লেনে ও ট্রেনে ভিনদেশে ও ভিনরাজ্যে বিভিন্ন ধরনের ফুল যেত। করোনা রুখতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় ফুলও আর যায় না, তাই বাগানের ফুল নষ্ট হচ্ছে বাগানেই। তবুও সার দিয়ে বাগান ভর্তি ফুলের কলিকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন চাষিরা। যদি ঠিক হয়ে যায় পরিস্থিতি।