দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: নকল সোনা দিয়ে ব্যাঙ্ক থেকে কোটি টাকার বেশি ঋণ নেওয়ার ঘটনায় ধৃতকে ৫ দিন পুলিশ হেফাজতে পাঠাল আদালত। একই দিনে সেই মামলায় অপর তিন অভিযুক্তের আগাম জামিন মঞ্জুর করলেন জেলা জজ। পাশাপাশি ব্যাঙ্কের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন জেলা জজ। ঘটনায় আইনজীবী মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
ধৃতের নাম লক্ষ্মণ অধিকারী। হুগলির মগরা থানার অধিকারীপাড়ায় তাঁর বাড়ি। বৃহস্পতিবার রাতে বাড়ি থেকে বর্ধমান থানার পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। বর্ধমান আদালতে পেশ করা হলে তদন্তের প্রয়োজনে তাকে ৭ দিন পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন জানান তদন্তকারী অফিসার দীপ্তেশ চট্টোপাধ্যায়। বাকি তিন অভিযুক্তের আগাম জামিন এদিনই মঞ্জুর হয়েছে বলে সিজেএম আদালতে জানান ধৃতের আইনজীবী জয়ন্ত কোনার। সরকারি আইনজীবী অবশ্য পুলিশি হেফাজতের পক্ষে জোরালো সওয়াল করেন। সওয়াল শুনে ধৃতকে পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন সিজেএম সুজিত কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়।
এদিনই বাকি তিন অভিযুক্ত মৌমিতা অধিকারী, মিঠু পাইন ও সমিত গঙ্গোপাধ্যায়ের আগাম জামিনের আবেদনের শুনানি হয় জেলা জজের আদালতে। সরকারপক্ষ জোড়া এপিপি নিয়োগ করে শুনানিতে। এছাড়াও ব্যাঙ্ক এবং ঋণ আদায়কারী সংস্থাও পৃথক আইনজীবী নিয়োগ করে জামিনের বিরোধিতায়। অভিযুক্ত এবং সরকারপক্ষ ও ব্যাঙ্কের আইনজীবীদের বক্তব্য শুনে জেলা জজ ম্যানেজারের কাছে ঘটনার বিষয়ে ব্যাখ্যা তলব করেন। ঋণ নেওয়ার সময় ব্যাঙ্কের স্বর্ণকার বন্ধক রাখা সোনা পরীক্ষা করেছিলেন কিনা তা জানতে চান জেলা জজ। পাশাপাশি দ্বিতীয়বার সোনা পরীক্ষার সময় অভিযুক্তরা উপস্থিত ছিল কিনা তা ম্যানেজারের কাছে জানতে চান তিনি। ব্যাঙ্কের ম্যানেজার স্বর্ণকারের পরীক্ষার কথা এবং দ্বিতীয়বার সোনা পরীক্ষার সময় অভিযুক্তরা উপস্থিত ছিল না বলে জানান। এরপরই জেলা জজ পার্থসারথি সেন তিন অভিযুক্তের আগাম জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেন। ঋণ নেওয়ার সময় বন্ধক রাখা সোনা পরীক্ষা করে স্বর্ণকার ঠিক আছে বলে জানিয়েছিলেন। সেই সোনা দ্বিতীয়বারের পরীক্ষায় কীভাবে নকল হল তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জেলা জজ। ব্যাঙ্ক তার দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করেনি বলে নির্দেশে উল্লেখ করেছেন জেলা জজ।
ব্যবসার জন্য কয়েক দফায় কোটি টাকার কাছাকাছি ঋণ নেয় ওই ৪ জন। ঋণ নেওয়ার জন্য তারা ব্যাঙ্কে সোনা বন্ধক রাখে। ঋণ মঞ্জুরের আগে ব্যাঙ্ক নিজস্ব স্বর্ণকার দিয়ে বন্ধক রাখা সোনা পরীক্ষা করায়। স্বর্ণকারের শংসাপত্র মেলার পর ঋণ মঞ্জুর হয়। এরপর ২০২০ সালে ব্যাংকের অডিটর বিভিন্ন ঋণের অ্যাকাউন্টের বন্ধক রাখা জিনিসপত্র পরীক্ষা করেন। তাতে ওই চার জন নকল সোনা রেখে ঋণ নিয়েছেন বলে জানানো হয়। এরপরই ব্যাঙ্কের তরফে বর্ধমান থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। তার ভিত্তিতে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের ধারায় মামলা রুজু হয়। অন্যদিকে, লক্ষ্মণ সিজেএম আদালতে পৃথক একটি অভিযোগ দায়ের করে। তাতে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ বন্ধক রাখা সোনা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।