দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর থেকে বৈদ্যবাটি, শেওড়াফুলি অঞ্চলে কাজ করতে এসে আটকে পড়েছিলেন প্রায় ৫৫ জন নির্মাণ শ্রমিক। করোনাভাইরাস রুখতে দেশজুড়ে লকডাউনের জেরে বন্ধ ট্রেন ও বাস চলাচল। তাই কাজ বন্ধ হয়ে গেলেও ঘরে ফিরে যেতে পারছিলেন না তাঁরা।
একদিকে কাজ না থাকায় আয়ের উপায় বন্ধ। অন্যদিকে বন্ধ ঘরে ফেরার পথও। টানা ২১ দিন কোথায় থাকবেন, কী খাবেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে যান ওই নির্মাণ শ্রমিকরা। এই খবর যায় চাঁপদানির বিধায়ক রাজ্যের বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নানের কাছে। ওই নির্মাণ শ্রমিকদের বাড়ি ফেরাতে উদ্যোগী হন বিধায়ক। অনেক চেষ্টার পরেও জেলার কোনও বেসরকারি বাস মালিক ওই শ্রমিকদের জঙ্গিপুর দিয়ে যেতে রাজি না হওয়ায় পরিবহণ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন বিরোধী দলনেতা।
বিধায়কের অনুরোধে পরিবহণ মন্ত্রী একটি সরকারি বাসের ব্যবস্থা করে দেন। আরামবাগ ডিপো থেকে রাজ্য পরিবহণ নিগমের একটি বাস করে আটকে পরা নির্মাণ শ্রমিকরা জঙ্গিপুর রওনা দেন।
আব্দুল মান্নান বলেন, ‘‘এখানে কাজ না থাকলে ওই নির্মাণ শ্রমিকদের পক্ষে থাকা ও খাওয়ার খরচ জোগাড় করা অসম্ভব। তাই বাড়ি ফিরতে মরিয়া হয়ে গেছিল ওরা। সে খবর পেয়েই ওদের বাড়ি ফেরানোর চেষ্টা করি। কোনও বেসরকারি গাড়ি পাওয়া না যাওয়ায় শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করি। উনি সঙ্গে সঙ্গে সরকারি বাসের ব্যবস্থা করে দেন। এরজন্য আমি ওঁকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’’
করোনা প্রতিরোধে দেশজুড়ে লকডাউন ঘোষণা হওয়ার পর এমন বহু শ্রমিকই তাঁদের কর্মস্থলে আটকে পড়েছেন। ঘরে ফেরার উপায় না পেয়ে সংশ্লিষ্ট রাজ্যসরকারের সঙ্গে যোগাযোগের মরিয়া চেষ্টা করছেন। বিভিন্ন রাজ্যে আটকে রয়েছেন এ রাজ্যের বহু পর্যটক ও চিকিৎসার জন্য ভিন রাজ্যে যাওয়া মানুষও। কীভাবে ঘরে ফিরবেন তা ভেবে বিনিদ্র রাত কাটছে তাঁদের।