দ্য ওয়াল ব্যুরো, মালদহ: বিয়ের পরেও স্ত্রীকে মর্যাদা দিচ্ছেন না তাঁর স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এমনটাই অভিযোগ। ন্যায্য অধিকারের দাবিতে তিনদিন ধরে ধর্নায় ওই গৃহবধূ। এই ঘটনায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে হরিশ্চন্দ্রপুরের পিপলা এলাকায়। দেখা করে এলেন জনপ্রতিনিধিরা।
প্রতিবেশী যুবক প্রশান্ত দাস তাঁকে গত ২৯ নভেম্বর বিয়ে করেন বলে তরুণীর দাবি। তারপর গত এক সপ্তাহ ওই যুবক তরুণীর বাড়িতেই ছিলেন। শনিবার বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফেরেননি। এরপর রবিবার সকাল থেকে শ্বশুরবাড়ির সামনে ধর্নায় বসেন ওই তরুণী। তাঁর অভিযোগ, বিয়ে হয়ে গেলেও তাঁকে স্বীকৃতি দিচ্ছে না স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির লোক। ঘটনা শোনার পর বুধবার পিপলায় গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন জেলা পরিষদের শিশু, নারী, সমাজকল্যাণ ও ত্রাণ কর্মাধ্যক্ষ মার্জিনা খাতুন। তিনি বলেন, ‘‘ওই মহিলা নিজের ন্যায্য অধিকারের দাবিতে ধর্ণা দিচ্ছেন। শুনেই আমি দেখা করতে এসেছি। এই ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। সে যাতে সুবিচার পায় তা অবশ্যই দেখা হবে।’’
হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লকের যুব তৃণমূল সভাপতি জিয়াউর রহমান সব শুনে ওই তরুণীর পাশে থাকার বার্তা দেন। যদিও চেষ্টা করেও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে তাঁরা কথা বলতে সফল হননি। জিয়ায়ুর রহমান বলেন, ‘‘এই ঘটনা অনভিপ্রেত, সুস্থ সমাজে এই ধরণের ঘটনা কাম্য নয়। আমরা চাইব ওই বধূ তাঁর ন্যায্য অধিকার পাক। ওর স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির লোকেদের সঙ্গে কথা বলে সমাধান হলে খুবই ভাল।’’
এদিকে জনপ্রতিনিধিরা ফিরে যেতেই প্রতিবেশীদের একাংশ ওই তরুণীকে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে ঢোকানোর চেষ্টা করেন। ভিতর থেকে বাধা দেন তরুণীর শ্বশুরবাড়ির লোকজনও। তা নিয়ে এলাকার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
হরিশ্চন্দ্রপুরের আইসি সঞ্জয় কুমার দাস বলেন, ‘‘এখনও কোনও তরফেই লিখিত অভিযোগ জানানো হয়নি। তবে আমরা পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছি।’’