দ্য ওয়াল ব্যুরো, নদিয়া: বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের কারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাদ। তারই জেরে স্বামীকে শ্বাসরোধ করে খুনের অভিযোগ উঠল স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এই কাজে ওই মহিলার মেয়ে এবং তাঁর প্রেমিক তাঁকে সহযোগিতা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আর এই অভিযোগেই সোমবার সকালে ওই তিনজনের উপর চড়াও হয় এলাকার মানুষ। তাঁদের মারধর করা হয়।
পুলিশসূত্রে জানা গেছে, নদিয়ার রানাঘাট থানার কুপার্স পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ছিলেন অজয় ঘরামি (৩৭)। পেশায় মৃৎশিল্পী। অজয়ের পরিবারের অভিযোগ, তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে কুপার্স ১২ নম্বর ওয়ার্ডের বছর ৪৫ এর এক ব্যক্তির বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে। এবং সেই নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাদ চলছিল আগে থেকেই। এই সম্পর্কের জেরেই রবিবার গভীর রাতে অজয়কে শ্বাসরোধ করে খুন করে তাঁর স্ত্রী। তাকে সহযোগিতা করে তার মেয়ে ও প্রেমিক।
সোমবার সকালে ঘর থেকে অজয়ের দেহ মিলতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকার বাসিন্দারা। তিনজনকেই প্রচণ্ড মারধর করে তারা। মৃত ব্যক্তির স্ত্রীর মাথার চুল কেটে দেয়। পরে পুলিশ এসে মা, মেয়ে এবং প্রেমিককে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে।
মৃত ব্যক্তির স্ত্রীকে মারধর এবং চুল কেটে নেওয়ার প্রসঙ্গে কুপার্স ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা কুপার্স শহর তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি পিন্টু দত্ত বলেন, ‘‘যেহেতু মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে তাই স্থানীয় মানুষদের মধ্যে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। যে পরিস্থিতিতে বিষয়টি ঘটে গিয়েছে, সেইসময় কোনও কিছু রোধ করার মতো পরিস্থিতি ছিল না।’’
মৃতের স্ত্রী অভিযোগ করেন, স্বামীর সঙ্গে নানাকিছু নিয়ে বিবাদ ছিল আগে তাঁর। এই নিয়ে তাঁর স্বামী বেশ কয়েকবার মারধরও করেন তাঁকে। মেয়ের বক্তব্য, তার বাবা আত্মহত্যা করেছেন। তিনি খুন হননি। কাজেই খুনে সহযোগিতা করারও প্রশ্ন ওঠে না।
ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে রানাঘাট থানার পুলিশ। এখনও কেউ গ্রেফতার হয়নি।