দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: চা বাগানই তাঁদের রুটিরুজির ঠিকানা। লকডাউনে সেই বাগানের কাজ বিঘ্নিত। মজুরি না পেয়ে ডুয়ার্সের বিভিন্ন চা বাগানের শ্রমিক বস্তিতে হাহাকার। তবুও চা গাছগুলিকে তো বাঁচিয়ে রাখতে হবে। তাই পরম মমতায় চা গাছ বাঁচাতে রবিবার একদিনের স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে আগাছা সাফাই করলেন ওদলাবাড়ি চা বাগানের শ্রমিকরা। তাঁদের উদ্যোগকে কুর্নিশ জানাল চা শিল্প মহল।
করোনা রুখতে লকডাউন ঘোষণা হওয়ায় ২৪ মার্চ থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত পুরোপুরি কাজ বন্ধ ছিল চা বাগানে। এরপর কেন্দ্রের নির্দেশ অনুযায়ী ২৫ শতাংশ শ্রমিক নিয়ে শুরু হয়েছিল কাজ। এতদিন বাগান বন্ধ থাকায় আগাছায় মুখ ঢেকেছে বেশিরভাগ বাগান। বেড়েছে রোগ ও পোকার আক্রমণ। চা গাছের পরিচর্যা ঠিক মতো না হলে গাছ নষ্ট হয়ে যায়। আর গাছ নষ্ট হলে বন্ধ হয়ে যাবে চা পাতা উৎপাদনও। বাগানেও তালা পড়বে তখন। তাই চা গাছ বাঁচাতে এ দিন স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে বাগানের আগাছা সাফ করলেন চা শ্রমিকরা। উপস্থিত ছিলেন বাগানের ‘বাবুরাও’।
লকডাউনে বিশাল ক্ষতির মুখে পড়েছে পাহাড় ও ডুয়ার্সের চা বাগানগুলি। যেখানে প্রতি বছর ফার্স্ট ফ্ল্যাশের ভরা মরশুমে স্থায়ী শ্রমিক ছাড়াও অতিরিক্ত অস্থায়ী শ্রমিক নিতে কর্তৃপক্ষকে, সেখানে মাত্র ২৫ শতাংশ শ্রমিক দিয়ে এবার সব কাজ সারতে হচ্ছে। চা পাতা তোলার কাজে জোর দিতে গিয়ে ব্যহত হচ্ছে গাছ পরিচর্যার কাজ। আর এর ফলে সমূহ ক্ষতির মুখে পড়েছে চা গাছ।
ওদলাবাড়ি চা বাগানের ম্যানেজার আশিসকুমার সিনহা বলেন, ‘‘চা গাছের এই আগাছা ঘেরা অবস্থা থেকে চা বাগানকে আবার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যেতে এগিয়ে আসেন চা শ্রমিক ও বাবুরা। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে প্রায় এক হাজার জন মিলে স্বেচ্ছাশ্রম দিলেন। সাফাই হল ডুয়ার্সের ওদলাবাড়ি চা বাগান।’’
চা বিশেষজ্ঞ রাম অবতার শর্মা বলেন, ‘‘এই ঘটনা মনে করিয়ে দিল ৯০ সালের কথা। হিলা চা বাগানের শ্রমিকরা প্রতি সপ্তাহে একদিন করে স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে চা বাগানের ফ্যাক্টরি তৈরি করেছিলেন। দীর্ঘ ৩০ বছর পর আবার একই ঘটনা। এ বার লকডাউন পরিস্থিতিতে। এতদিন বন্ধ থাকায় চা বাগানগুলিতে প্রচুর আগাছা জন্মায় ও পোকার আক্রমণ বাড়ে। এই অবস্থায় পিছিয়ে পড়া কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে ওদলাবাড়ি চা বাগানের শ্রমিকদের এই স্বেচ্ছাশ্রম খুবই অনুপ্রেরণার। আশা রাখবো অন্যান্য বাগানেও এই ধরনের কাজ হবে। যা চা শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।’’