দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: চা পাতা তুলতে গিয়ে কিং কোবরার মুখোমুখি রামশাইয়ের চা চাষি। কোনওক্রমে প্রাণে বাঁচলেন রামশাইয়ের দেবেন রায়।
বুধবার সকালে ময়নাগুড়ি রামশাই এলাকায় চড়াইমোহোন গ্রামে নিজের ছোট চা বাগানে পাতা তুলছিলেন দেবেনবাবু। আচমকাই নজরে আসে চা গাছের ঝোপ থেকে ফনা উঁচিয়ে তার দিকে তেড়ে আসছে একটি বিশাল কিং কোবরা। পিঠে থাকা চা পাতা বোঝাই ব্যাগ ফেলে চিৎকার করতে করতে এক ছুটে বাগান ছেড়ে পালান তিনি।
দেবেনবাবুর চিৎকার শুনে ছুটে আসেন এলাকার বাসিন্দারা। চা বাগানে সাপের কথা শুনে খবর দেওয়া হয় গরুমারার রামশাই রেঞ্জ অফিসের মোবাইল টিমকে। খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে চলে আসেন মোবাইল টিমের বনকর্মীরা। তাঁরা এসে সাপটিকে কিং কোবরা বলে সনাক্ত করার পর খবর দেওয়া হয় ময়নাগুড়ির পরিবেশ প্রেমী সংগঠনের সম্পাদক নন্দু রায়কে। খবর পেয়েই তাঁদের রেসকিউ টিম নিয়ে রামশাইয়ের ওই চা বাগানে চলে আসেন নন্দুবাবু। নন্দুবাবুর টিমের সঙ্গে সাপটিকে ধরার চেষ্টা শুরু করেন বনকর্মীরাও। প্রায় ৩০ মিনিটের চেষ্টায় অবশেষে কিং কোবরাকে উদ্ধার করেন তারা। এরপর তাকে খাঁচাবন্দি করে নিয়ে যাওয়া হয় গরুমারায়।
নন্দু রায় বলেন, ‘‘এখন চারদিকে বৃষ্টি চলছে। সাপের গর্তেও জল ঢুকে যাচ্ছে। সাপের আবাসস্থল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এরা এখন ক্রমশ লোকালয়মুখী হচ্ছে। আমরা খবর পেয়ে গিয়ে সাপগুলিকে উদ্ধার করে আবার পরিবেশে ফিরিয়ে দিচ্ছি। এই নিয়ে চলতি মরশুমে ময়নাগুড়ির বিভিন্ন এলাকা থেকে আমরা তিনটি কিং কোবরা উদ্ধার করলাম।’’ এদিন ধরা পড়া কিং কোবরাটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১২ ফুট বলে বন দফতর সূত্রে জানা গেছে।
৩১ নং জাতীয় সড়কের ধারে ময়নাগুড়ির ইন্দিরা মোড় লাগোয়া এলাকায় বাড়ি বাবুল সরকারের। শনিবার রাতে তার স্ত্রী রান্না করতে গেলে দেখতে পান রান্নাঘরের মেঝেতে একটি সাপ ফনা তুলে সাথে বেশ কয়েকটি ছানা নিয়ে খেলে বেড়াচ্ছে। দৃশ্য দেখে ভিমড়ি খাওয়ার জোগাড় হয় বাবুলবাবুর স্ত্রীর। চিৎকার করে ছুটে পালান তিনি। ভয়ে রাতে আর কেউ রান্নাঘরেই যাননি।
রবিবার বেলার দিকে ফের রান্নাঘরে গেলে একই দৃশ্য দেখতে পান বাবলুবাবুর স্ত্রী। তাঁদের কাছে খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে পুরো টিম নিয়ে ছুটে যান ময়নাগুড়ির পরিবেশপ্রেমী সংগঠনের সম্পাদক নন্দুবাবু। ওই বাড়ির রান্নাঘর খুড়ে মা ও ছানা-সহ ২৪ টি স্পেকটিক্যাল কোবরা উদ্ধার করেন তিনি।