দ্য ওয়াল ব্যুরো, আলিপুরদুয়ার: ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে খুলে যাচ্ছে জঙ্গল। তবে আপাতত চালু হচ্ছে না হাতি সাফারি। তাই জঙ্গলে ঢুকতে পারলেও হাতির পিঠে করে বনাঞ্চল ঘোরার রোমাঞ্চ থেকে আপাতত বঞ্চিতই থাকতে হবে পর্যটকদের। তবুও জঙ্গল খোলার সিদ্ধান্তে স্বস্তি ফিরল পর্যটন মহলে।
শুক্রবার রাজ্যের বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আমরা নির্দিষ্ট কিছু বিধিনিষেধ সহ ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে রাজ্যের সমস্ত বনাঞ্চল পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সকলের কাছে আবেদন রাজ্য বন দফতরের জারি করা বিধিনিষেধ মেনে চলুন।’’
প্রতিবছর বর্ষার মরসুমে ১৫ জুন থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর- এই তিনমাস রাজ্যের বনাঞ্চল পর্যটকদের জন্য বন্ধ থাকে। এই সময় বন্য জন্তুদের প্রজননের সময়। তাছাড়া বর্ষার এই সময়ে প্রচুর চারাগাছ জন্মায়। সেই কারণে এই তিন মাস পর্যটকদের জন্য জঙ্গলে প্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ থাকে। ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। কিন্তু অতিমারির কারণে ব্যতিক্রম ঘটেছে এই বছর। ১৬ সেপ্টেম্বর জঙ্গল খোলেনি রাজ্য বন দফতর।
করোনা পরিস্থিতিতে এ বার দারুণ আর্থিক ক্ষতির মুখে পাহাড় ও ডুয়ার্সের পর্যটন ব্যবসায়ীরা। পুজোর মুখে জঙ্গল খুললে পর্যটকদের আনাগোনায় সেই ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে দেওয়া যাবে বলে মনে করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু ১৬ তারিখ জঙ্গল না খোলায় তাঁরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। জঙ্গল খোলার দাবিতে ২১ সেপ্টেম্বর উত্তরকন্যা অভিযানের ডাক দিয়েছিলেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। তবে এখন জঙ্গল খুলে দেওয়ায় সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নেন তাঁরা। ডুয়ার্স ট্যুরিজম ডেভলাপমেন্ট ফোরামের সহ সভাপতি বিপ্লব দে বলেন, ‘‘কিছু বিধি নিষেধ আরোপ করে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে জঙ্গল খুলছে। আমরা রাজ্য বন দফতরের এই সিদ্ধান্তে খুশি। উত্তরকন্যা অভিযান প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে আমরা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছি। আমাদের বেশ কিছু দাবি রয়েছে।’’
শুক্রবার এক নির্দেশিকায় রাজ্য বন দফতর ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ সহকারে পর্যটকদের জন্য বনাঞ্চল খুলে দেওয়ার নির্দেশ জারি করে। রিসোর্ট বুকিং থেকে বনে প্রবেশের টিকিট সবই অনলাইনে কাটতে হবে পর্যটকদের। ফেস কভার ব্যবহারও বাধ্যতামুলক করেছে রাজ্য বনদফতর।