দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: শেষ পর্যন্ত আশঙ্কা সত্যি হল। বন্ধ হয়ে গেল জামালপুর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র। এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পাঁচ চিকিৎসকের মধ্যে কোয়ারেন্টাইনে আছেন দু’জন। শুক্রবার করোনা সংক্রমণ ধরা পরে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আরও দুই চিকিৎসক-নার্স-স্বাস্থ্যকর্মী ও সাফাই কর্মীর। এখন একজন মাত্র চিকিৎসক ও কয়েকজন নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন পরিষেবা দেওয়ার জন্য। কিন্তু তাঁদের অভিযোগ তাঁরা পিপিই কিট, গ্লাভস ও স্যানিটাইজার পাচ্ছেন না। সেই কারণে আতঙ্কে শনিবার স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা পরিষেবা দিতে অস্বীকার করেন তাঁরা। বাকি সব বিভাগ বন্ধ হয়ে গেলেও একমাত্র জরুরি বিভাগ খোলা ছিল। কিন্তু চিকিৎসক বা নার্সরা না যাওয়ায় কার্যত বন্ধ হয়ে গেল গোটা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিষেবাই।
গত ২৪ ঘণ্টায় গোটা জামালপুর ব্লকে মোট ৩৯ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। তার মধ্যে ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দু'জন চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী ও সাফাইকর্মী রয়েছেন। গোটা জেলাতেই করোনার গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী। প্রতিদিনই জেলায় গড়ে ৫০ জন করে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে। মৃত্যুও হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে কোভিডে। ফলে আশঙ্কা ও আতঙ্কের দোলাচালে স্বাস্থ্যকর্মী থেকে জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা।
এই ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক ও নার্সরা জানান, পরিষেবা চালু রাখার চেষ্টা করলেও কিন্তু এখন তাঁদের পক্ষে আর পরিষেবা চালু রাখা সম্ভব নয়। কার্যত বাধ্য হয়েই তাঁরা পরিষেবা বন্ধ করেছেন। এদিকে রোজকার মত শনিবারও সকাল থেকেই এলাকার ও দূরদূরান্ত থেকে বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে রোগী ও রোগীর বাড়ির লোকজন ভিড় করছেন ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। শুধুমাত্র জামালপুর ব্লকের মানুষজন নয়, বর্ধমান জেলার রায়না ও ভিনজেলার হুগলির ধনেখালি এলাকার মানুষজনও এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য আসেন। চিকিৎসকরা বলেন, রোগীর আত্মীয়দের নিষেধ করা সত্ত্বেও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভিতরে ঢুকে পড়ছেন তাঁরা।
জামালপুরের বিডিও শুভঙ্কর মজুমদার বলেন, ‘‘অবস্থা খুবই খারাপ। যদি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা আক্রান্ত হয়ে পড়েন তাহলে পরিষেবা সচল রাখা কঠিন ব্যাপার। যে ভাবে এই এলাকায় কোভিডে আক্রান্তের সংখ্যা হুহু করে বাড়ছে তাতে গোটা এলাকা লকডাউন করা ছাড়া আর দ্বিতীয় কোনও রাস্তা নেই।’’ এই বিষয়ে জেলাশাসককে জানাবেন বলেও জানান তিনি।