দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: মহালয়া পেরিয়ে গেছে। মলমাসেই সূচনা হয়েছে দেবীপক্ষের। অন্যবার এ সময় নাওয়া খাওয়ার সময় পান না। এবার শুধুই শূন্যতা। কোভিড পরিস্থিতে কারও হাতেই কাজ নেই। বরাত যেটুকু পেয়েছেন তা শুধুই ছোট প্রতিমার। ফলে এবার একেবারেই জৌলুসহীন বর্ধমান শহরের কুমোরপাড়া।
কাঞ্চননগর, নীলপুর, ইছলাবাদ বর্ধমানের কুমোরপাড়া হিসেবে পরিচিত। শহর তো বটেই লাগোয়া জেলাগুলি থেকেও প্রতিমা তৈরির অর্ডার আসে এখানে। সারাবছর নানা পুজোতেও প্রতিমা তৈরির ব্যস্ততা থাকে মৃৎশিল্পীদের। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। শারদোৎসব এসে গেলেও দুর্গাপ্রতিমার বরাত নেই। কিছু বিশ্বকর্মা মূর্তি তৈরি করেছিলেন শিল্পীরা। যদি বিক্রি হয় সেই আশায়। কিন্তু সাড়া মেলেনি। কিছু বিক্রি হলেও বেশিরভাগ মূর্তি রয়ে গেছে। তাই চিন্তায় শিল্পীরা।
কাঞ্চননগর এলাকার পটুয়াপাড়ার মৃৎশিল্পী বলরাম পাল বলেন, ‘‘অন্য বছর ১৮ থেকে ২০টি ঠাকুর তৈরির বরাত মিলত। ঠিকদিনে ডেলিভারি করতে হবে। তাই নাওয়া খাওয়ার সময় থাকত না। এবার সেখানে বরাতই নেই। যা একটা-দুটো অর্ডার পেয়েছি, সেগুলিও ছোট প্রতিমার। বড় প্রতিমার জন্য কেউ বলেননি। কারণ অনেকেই এ বার পুজোই করছেন না। যাঁরা দুয়েকজন করছেন তাঁরাও বাজেট কমিয়ে ছোট করে পুজো করবেন বলে জানিয়েছেন।’’ কিন্তু এতে মাথায় হাত পড়েছে শিল্পীদের। কারণ মাটি, খড়, পাট, সুতলি দড়ি সবেরই দাম বেড়েছে। তাই লাভ উঠবে কি না সেই নিয়েই চিন্তায় শিল্পীরা।
একই দাবি ইছলাবাদের নারায়ণ পালের। তিনি বলেন, ‘‘গত বছর ৩৮টি প্রতিমা তৈরি করেছিলাম। এবার বরাত মিলেছে মাত্র ১৪টির। এক লক্ষ টাকা দামের প্রতিমা গত বছর বিক্রি হলেও এবার ৫০ হাজারের প্রতিমাতেই সন্তুষ্ট উদ্যোক্তারা।’’
একই অবস্থা নীলপুরের নিখিল পালের। গত বছর যতগুলি প্রতিমা তৈরির বরাত পেয়েছিলেন এবার সংখ্যাটা এক ধাক্কায় কমে গেছে অর্ধেকে। তিনি বলেন, ‘‘গতবার ৪০টি দুর্গাপ্রতিমা তৈরি করেছিলাম। এবার কুড়িটার বরাতও পাইনি। কী ভাবে যে খরচ উঠবে বুঝতে পারছি না।’’
শিল্পীরা জানাচ্ছেন, দীর্ঘ লকডাউনে কুমোরপাড়ার অর্থনীতি ধসে গেছে। প্রতিদিনের সংসার চালাতে গিয়ে রীতিমতো নাকাল অবস্থা। এরমধ্যেই ধার করে বিশ্বকর্মার মূর্তি তৈরি করছেন। তখনও বিক্রিবাটা ভালো না হওয়ায় ধার মেটানো যায়নি। এবার শারদোৎসবকে সামনে রেখেও ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হল না তাঁদের। ফলে শুধুই হতাশা মৃৎশিল্পীদের ঘরে ঘরে।