দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: মঙ্গলবার জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানায় বসে গরম ভাত আর খাসির মাংস দিয়ে মধ্যাহ্ন ভোজ সেরেছিলেন আন্দোলন করে গ্রেফতার হওয়া বিজেপির কর্মী সমর্থকরা। আর বুধবার বদলির নির্দেশ এল জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার আই সি বিশ্বাশ্রয় সরকারের। জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানা থেকে পূর্ব মেদিনীপুরের কন্টাইয়ের কোর্ট ইন্সপেক্টর হিসেবে বদলি করা হল তাঁকে। জলপাইগুড়ি পুলিশ সুপার অভিষেক মোদী জানান, কোতোয়ালি থানার আইসিকে বদলি করা হয়েছে।
বদলি তো একজন পুলিশ আধিকারিকের চাকরির অন্যতম শর্ত। তবুও ঘটনা পরম্পরায় শহরজুড়ে প্রশ্ন, বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীদের খাতিরদারি করাতেই কি বদলি হতে হল বিশ্বাশ্রয়বাবুকে?
প্রায় বছর তিনেক ধরে জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন বিশ্বাশ্রয়বাবু। শহরের মানুষের বক্তব্য, তাঁর আমলে যে শুধু শহরে অপরাধ কমেছে, তাই নয়, সামাজিক নানা কাজেও সমানভাবে এগিয়ে আসতেন তিনি। তাই তাঁর এই হঠাৎ বদলিতে গুঞ্জন সর্বত্র।
তৃণমূলের উত্তরবঙ্গের কোর কমিটির নতুন চেয়ারম্যান সৌরভ চক্রবর্তী অবশ্য বলেন, ‘‘আইসি বদলির সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ নেই। নিয়ম মেনে রুটিন বদলি করা হয়েছে তাঁকে।’’
সোমবার সকালে হেমতাবাধের বিজেপি বিধায়ক দেবেন্দ্রনাথ রায়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। তাঁকে খুন করা হয়েছে, এই অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গে বনধের ডাক দেয় বিজেপি। সকাল থেকেই উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বনধের সমর্থনে পথে নামেন বিজেপির কর্মী সমর্থকরা। জলপাইগুড়ি শহর ও লাগোয়া এলাকাতেও সকাল সকাল পথে নেমে দোকানপাট খোলায় ও যান চলাচলে বাধা দেন বিজেপি কর্মীরা। স্বাভাবিক জনজীবনে বাধা সৃষ্টির অভিযোগে জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানা পুলিশ গ্রেফতার করে বিজেপির শতাধিক নেতা কর্মীকে।
ধৃতদের নিয়ে আসা হয় জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানায়। দুপুর গড়াতে খিদে পায় গ্রেফতার হওয়া বিজেপি কর্মীদের। সেই কথা জানালে পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁদের মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করতে নেমে পড়েন পুলিশ কর্মীরা। ফয়েল প্যাক করে আনা হয় তাঁদের পছন্দের মেনু খাসির মাংস আর ভাত। পরম তৃপ্তিতে পেটপুরে মাংস-ভাত খেয়ে খুবই খুশি হন বিজেপির নেতা কর্মীরা।
বিজেপি মজদুর মোর্চার জেলা সভাপতি মানস মুস্তাফি জানিয়েছিলেন গ্রেফতার করে কোতোয়ালি থানায় আনার পর পুলিশ তাঁদের জিজ্ঞাসা করে দুপুরে কী খাবেন তাঁরা। খাসির মাংস আর গরম ভাত চাওয়ায় তাই এনে দেওয়া হয় তাঁদের।