দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: কেন্দ্রের রেড জোনের তালিকায় জলপাইগুড়ির নাম জুড়েছে, জানাজানি হতেই সাড়া পড়ে গেছে গোটা জেলায়। তারপরেই শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠক করে জেলাবাসীকে আশ্বস্ত করলেন করোনা মোকাবিলায় রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর নিযুক্ত উত্তরবঙ্গের অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি ডাক্তার সুশান্ত রায়। তিনি বলেন, ‘‘৪ এপ্রিলের পর থেকে জলপাইগুড়ি জেলায় আর কোনও করোনা পজেটিভ কেস পাওয়া যায়নি। সুতরাং আমি জেলাবাসীকে আশ্বস্ত করছি আপনারা নিশ্চিন্ত থাকুন।’’
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের সচিব প্রীতি সুদন সব রাজ্যের মুখ্যসচিবকে চিঠি দিয়েছেন। সেই চিঠিতে গোটা দেশের রেড, অরেঞ্জ ও গ্রিন জোনের তালিকা পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। তাতেই বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে দশটি জেলা হল রেড জোন। ওই দশ জেলা হল, কলকাতা, হাওড়া, দুই চব্বিশ পরগনা, দুই মেদিনীপুর, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং ও মালদহ। আর অরেঞ্জ জোন হল, হুগলি, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, নদিয়া এবং মুর্শিদাবাদ। এই তালিকা হাতে আসার পরেই নবান্ন থেকে প্রতিবাদ জানানো হয়। যে ভাবে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছে তা একেবারে ঠিক না বলে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিবকে চিঠি পাঠিয়েছে নবান্ন।
এই সুরই শোনা গেল সুশান্ত রায়ের গলায়। বৃহস্পতিবার আলিপুরদুয়ারে চারজন করোনা রোগীর খোঁজ মেলার পর শুক্রবার দুপুরে তিনি জলপাইগুড়ি স্বাস্থ্যভবনে জেলার স্বাস্থ্য আধিকারিকদের নিয়ে জরুরি বৈঠক সারেন। তারপরেই তিনি বলেন, ‘‘উত্তরবঙ্গের সমস্ত সোয়াব উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের ল্যাব থেকে পরীক্ষা করা হচ্ছে। সেখানে জলপাইগুড়ি জেলার কোনও ইন্ডিজেনাস পেশেন্টের করোনা পজিটিভ কেস পাওয়া যায়নি। পজিটিভ হলে তবে তো রেড জোনের কথা আসবে? সুতরাং আমি জেলাবাসীকে আশ্বস্ত করছি আপনারা নিশ্চিত থাকুন। কোনো পজিটিভ কেস নেই।’’
তিনি আরও জানান, আলিপুরদুয়ারের ৪ জনকেই গতকালই কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। জলপাইগুড়ি সারি হাসপাতালে আটজন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গতকাল এঁদের লালারস পাঠানো হয়েছে। আজ রাতে রিপোর্ট আসার সম্ভাবনা রয়েছে। রিপোর্ট নেগেটিভ এলে আগামীকাল এঁদের ছেড়ে দেওয়া হবে।