জোয়ারের জলে দিঘার পাড়ে ইলিশের ঝাঁক, তাজ্জব সৈকত শহরের বাসিন্দারা
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব মেদিনীপুর: গত বছরের ভরা মরসুমেও যার খোঁজে বাজারে গিয়ে বারবার হতাশ হয়ে ফিরতে হয়েছে, সেই রুপোলি শস্য এখন ঝাঁকে ঝাঁকে উঁকি মেরে যাচ্ছে দিঘার সৈকতে। মাঝেমধ্যে দুয়েকটা উঠেও পড়ছে পাড়ে। শুনশান বেলাভূমিতে সে দৃশ্য দেখার অবশ্য
শেষ আপডেট: 13 May 2020 08:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব মেদিনীপুর: গত বছরের ভরা মরসুমেও যার খোঁজে বাজারে গিয়ে বারবার হতাশ হয়ে ফিরতে হয়েছে, সেই রুপোলি শস্য এখন ঝাঁকে ঝাঁকে উঁকি মেরে যাচ্ছে দিঘার সৈকতে। মাঝেমধ্যে দুয়েকটা উঠেও পড়ছে পাড়ে। শুনশান বেলাভূমিতে সে দৃশ্য দেখার অবশ্য লোক নেই।
লকডাউন। পর্যটকশূন্য বিস্তীর্ণ বেলাভূমি। পাল্টে গেছে জলের রঙও। নির্মল সমুদ্রে দাপাদাপি বেড়েছে ইলিশের দলের। জোয়ারের সময় প্রায়ই বাঁধাই বিচের কাছে লাফালাফি করছে এক থেকে দেড় কিলো ওজনের ইলিশের ঝাঁক। একমাত্র সাক্ষী সমুদ্র তীরবর্তী এলাকার স্থায়ী বাসিন্দারা।
কখনও ঝড়, কখনও মুষলধারে বৃষ্টি বা অন্য কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগ। প্রায় তিন মাস ধরে সমুদ্রে মাছ ধরতে যেতে পারেননি মৎস্যজীবীরা। কখনও বা কিছুটা গিয়ে ফিরে আসতে হয়েছে দুর্যোগ থেকে বাঁচতে। তার উপর করোনা রুখতে গত প্রায় দু’মাস ধরে টানা লকডাউন। তাই ট্রলারের দাপাদাপি নেই অনেকদিন ধরেই। মৎস্যজীবীদের ঘরে অনটনের আঁধার নামলেও, দূষণমুক্ত হয়েছে সমুদ্র। জলও হয়েছে স্বচ্ছ। আর এমন পরিবেশ পেয়ে এক্কেবারে সমুদ্রের পাড়ে চলে আসছে ইলিশের ঝাঁক।

গত কয়েক দিনে সমুদ্রের পাড়ে টহলরত পুলিশ ও নুলিয়াদের বেশ কয়েকজনের অভিজ্ঞতা হয়েছে বাঁধানো পাড়ে দাপাদাপি করা এই জ্যান্ত ইলিশ ধরে নেওয়ার। বাড়ি পর্যন্ত নিয়ে গিয়ে রেধে খেয়ে তৃপ্ত নুলিয়া রতন বললেন, ‘‘কী স্বাদ আর গন্ধ। সত্যি জিভে জল আসে। মাঝে মাঝেই ইলিশ চলে আসছে পাড়ে। ধরতে পারলেই ব্যাস।’’
দিঘার মৎস্যজীবী দেবাশিস জানা। দীর্ঘদিন ধরে ট্রলার নিয়ে সমুদ্রে যান। মাছ এনে বিক্রি করেন দিঘার বাজারে। বললেন, ‘‘আমার এত বছরের জীবনে এমনটা কখনই দেখিনি। সমুদ্রের এমন রং যেমন আগে দেখিনি, তেমনই ইলিশ মাছ এসে পাড়ে লাফাচ্ছে এমনও দেখিনি কখনও।’’
মৎস্য বিশেষজ্ঞ শ্যামসুন্দর দাস জানান, ইলিশ স্বচ্ছ জলে থাকতে পছন্দ করে। তাই বর্ষার পরে মোহনার কাছে গিয়ে এর দেখা মেলে। এখন লকডাউনের জেরে গোটা পৃথিবীর পরিবেশই বদলে গেছে। দূষণ নেই। ফলে নির্মল হয়েছে সমুদ্র। ট্রলার নিয়ে মৎস্যজীবীরা যেমন মাছ ধরতে যেতে পারছেন না, তেমনই সমুদ্রের তটভূমিও পর্যটকশূন্য। এই নিস্তব্ধতাই ইলিশের ঝাঁককে পাড়ের দিকে টেনে আনছে।
দূষণ কমায় ইতিমধ্যে ডলফিনও দেখা গেছে সৈকত শহরের বেলাভূমি থেকে। পরিযায়ী পাখির কলরবে মুখর হয়ে উঠেছে দিঘা ও আশপাশের এলাকার সমুদ্রের খাঁড়িগুলি। নির্মল আনন্দ উপভোগে এবার সামিল বাঙালির অন্যতম ফ্যান্টাসি ইলিশ মাছের ঝাঁকও।