দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: করোনায় মৃতের সংস্পর্শে আসা লোকজনের তালিকা সরকারি দফতরে জমা দেওয়ায় এক আশা কর্মীকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। সেই ঘটনায় এক যুবককে গ্রেফতার করল বর্ধমান থানার পুলিশ। ধৃতের নাম হারাধন দাস ওরফে কেনা। বর্ধমান থানার বিজয়রামের মনসাতলা এলাকায় তার বাড়ি। শুক্রবার সকালে তার বাড়ি থেকে পুলিস ওই যুবককে গ্রেফতার করে। এদিনই ধৃতকে বর্ধমান আদালতে পেশ করা হলে ৬ আগস্ট পর্যন্ত বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন সিজেএম রতন কুমার গুপ্তা।
বিজয়রাম মনসাতলাতেই থাকেন আশা কর্মী মহিমা দাস। তিনি কুড়মুন ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের অধীনে হটুদেওয়ান সাব সেন্টারে এএসএইচএম হিসাবে কাজ করেন। দিনকয়েক আগে করোনায় আক্রান্ত হয়ে বিজয়রাম মনসাতলার এক বৃদ্ধা মারা যান। মৃতার করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসার পরেই স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে ওই বৃদ্ধার পরিবারের লোকজনকে তা জানানোর জন্য বলা হয় ওই আশা কর্মীকে। পাশাপাশি ওই বৃদ্ধার সংস্পর্শে আসা লোকজনের তালিকাও জমা দিতে বলা হয় তাঁকে। সেইমতো তিনি তালিকা তৈরি করে জমা দেন। ওই তালিকায় নাম ছিল হারাধনেরও।
অভিযোগ, বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা নাগাদ কেন তালিকায় নাম তোলা হয়েছে, তার জবাবদিহি চেয়ে হারাধন সহ আরও বেশ কয়েকজন ওই আশা কর্মীর বাড়িতে ঢুকে তাঁকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে। বাড়ির জিনিসপত্র ভাঙচুর করা হয়। এমনকি তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।
তাঁর চিৎকার শুনে ছুটে পড়শিরা ছুটে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। মহিমা দাস বলেন, ‘‘আমি সরকারি কর্মী। সরকারি নির্দেশেই করোনায় মৃত বৃদ্ধার সংস্পর্শে যাঁরা এসেছিলেন তাঁদের তালিকা তৈরি করে জমা দেই। তারজন্যই আমার বাড়িতে হামলা চালানো হয়।’’
এরপরেই ঘটনার কথা জানিয়ে ওই আশা কর্মী বর্ধমান থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতেই পুলিশ এ দিন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মারধর, ভাঙচুর ও ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্টের ধারায় মামলা রুজু করে।