দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: আনলক-২ শুরু হতেই গোটা দেশেই বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। এ রাজ্যের ছবিটাও ব্যতিক্রম নয়। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্তের হার। পরিস্থিতি সামাল দিতে গোটা রাজ্যেই এবার যে সমস্ত এলাকাগুলিতে আক্রান্তের সংখ্যা সর্বাধিক সেই এলাকাগুলি চিহ্নিত করে নতুন করে জোরদার নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।
কলকাতা-সহ রাজ্যের সমস্ত জেলায় চিহ্নিত করা হয়েছে কন্টেইনমেন্ট জোন। শনিবার রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব সৌমিত্র মোহন হুগলির বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে এই নজরদারি কেমন চলছে তা খতিয়ে দেখেন। পাশাপাশি মানুষের সচেতনতা আদৌ বেড়েছে কি না তাও ছিল তাঁদের খতিয়ে দেখার বিষয়। হুগলি জেলাশাসক ওয়াই রত্নাকর রাও সহ জেলা প্রশাসনের পদস্থ কর্তারাও এদিন রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিবের সঙ্গে পথে নামেন।
পরে জেলাশাসক ওয়াই রত্নাকর রাও বলেন, ‘‘মাস্ক বাধ্যতামূলক করতে ও সামাজিক দূরত্ব মানতে ব্যবসায়ী, ও বিভিন্ন হোটেল মালিকদের নোটিশ দেওয়া হচ্ছে। মাস্ক ছাড়া কেনাবেচা বন্ধ থাকবে। অর্থাৎ মাস্ক না পরে কেউ বাজাকে এলে তাঁকে জিনিসপত্র বিক্রি করতে বারণ করা হয়েছে ব্যবসায়ীদের। কন্টেইনমেন্ট জোনে লকডাউন ভালোভাবে চলছে। ঢোকা বেরোনোর রাস্তায় ব্যারিকেড করে দেওয়া হয়েছে। কন্টেইনমেন্ট জোনে থাকা বাসিন্দাদের সমস্ত প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ারও ব্যবস্থা হয়েছে।’’
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শ্রীরামপুরের ৩ নম্বর ওয়ার্ড গোয়ালাপাড়া লেনে লকডাউন চলছে। নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন একজন। বেশ কয়েকজনের জ্বর হওয়ায় তাদের আইসোলেশনে থাকতে বলা হয়েছে। ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট অভিনন্দা মুখার্জী ও পুরসভার প্রতিনিধিরা আজ সকালে কন্টেইনমেন্ট জোন গোয়ালাপাড়ায় যান। আক্রান্তের বাড়িতে অক্সিজেন সিলিন্ডার পৌঁছে দেওয়া হয়।এই এলাকার তিন জন কোভিড আক্রান্ত রোগী শ্রমজীবি হাসপাতালে ভর্তি। একজনকে বাড়িতেই আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। কন্টেইনমেন্ট জোনে ঢোকার মুখে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।সেখান থেকে বাইরে কাউকে বেরোতে দেওয়া হচ্ছে না। বাইরের লোকেরও ভিতরে প্রবেশ নিষেধ করা হয়েছে।
তবে এতসব সাবধানতা যে নেওয়া হচ্ছে শ্রীরামপুরের বাজারগুলোতে ঢুকলে কিন্তু তার কোনও লক্ষণ নজরে আসবে না। সেখানে জিনিস কেনার হুড়োহুড়ি। সামাজিক বিধি মানতে দেখা যাচ্ছে না অনেককেই। মাস্ক পরার ক্ষেত্রেও অনিহা ক্রেতা বিক্রেতাদের। অনেকেরই মাস্ক ঝুলছে গলার নীচে। নাক-মুখ ফাঁকা।
জেলাপ্রশাসনের কর্তারা বলেন, ‘‘যতই নজরদারি চলুক, মানুষ নিজে সাবধান না হলে করার কিছু নেই। করোনার প্রকোপ এত বাড়ার পরেও সচেতন হচ্ছেন না অনেকেই।’’