দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: দোকানের ভিতর থেকে এক ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়ায় পূর্ব বর্ধমান ভাতারে। মৃত যুবকের নাম শেখ মকবুল ইসলাম ( ২৯)। বাড়ি ভাতারের বেলেণ্ডা গ্রামে।
তাঁর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বছর দু'য়েক আগে ভাতার রেলস্টেশন বাজারে একটি কাপড়ের দোকান করেন মকবুল। খুব কম সময়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠাও করেন। বৃহস্পতিবার বাড়িতে জানিয়ে এসেছিলেন কলকাতায় দোকানের মালপত্র কিনতে যাবেন। কিন্তু সন্ধ্যার পর থেকে তাঁকে আর ফোনে পাওয়া যায়নি। মকবুলের বাবা নুরুল ইসলাম রাত বারোটার সময় দোকানে গিয়ে দেখেন দোকানের চাবি লাগানো। তাই দেখে তিনি বাড়ি চলে যান।
দোকানের কর্মচারী সুচাঁদ দাস শুক্রবার সকালে যখন আসেন, দেখেন দোকান বন্ধ। দোকানের সামনে ঘোরাফেরা করার সময়ে লক্ষ্য করেন তালা খোলা। সুচাঁদ দোকানের শাটার খুলতেই দেখেন তাঁর মালিক অর্থাৎ শেখ মকবুল ইসলাম, সিলিং ফ্যানে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলছে। সুচাঁদের চিৎকারে আশেপাশে লোকজন ছুটে আসেন। খবর দেওয়া হয় ভাতার থানায়।
পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যায়। মৃতের কাকা শেখ শফিক বলেন, ‘‘বাড়িতে কোনও অশান্তি হয়নি। গতকাল সকালে তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন কলকাতায় যাওয়ার জন্য। রাতে আর বাড়ি ফেরেননি তিনি। রাতে দাদা এসেও দোকানে খোঁজ নিয়ে গেছিল। দোকান বন্ধ ছিল। আজ সকালে শুনলাম তার মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। কী হল বুঝতে পারছি না।’’
মৃতের বাবা নুরুল ইসলাম সেখ বলেন, ‘‘বছর ছয়েক আগে আমার ছেলের বিবাহ হয়। তাদের একটি চার বছরের পুত্র সন্তান রয়েছে। বাড়িতে কোনও অশান্তি ছিল না। কিন্তু গত তিন মাস ধরে একটি মেয়ের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিল মকবুল। বুঝতে পারছি না কিছুই।’’
স্ত্রী পারভিন সুলতানা বলেন, ‘‘সকালে দেখতাম গোপনে ফোন করতো। হোয়াটসঅ্যাপে লিখতো। কিন্তু আমার সঙ্গে কোনও অশান্তি হয়নি। জানি না ঠিক কী হল।’’
এই তরুণ ব্যবসায়ীর এমন মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমেছে গোটা এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে, গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে। সমস্ত সম্ভাবনাই খতিয়েও দেখা হচ্ছে।