দ্য ওয়াল ব্যুরো, আলিপুরদুয়ার: বিপুল রায়ের পরিবারকে কেন্দ্রীয় সরকারের গ্রুপ-সি পদে চাকুরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর। শুক্রবার আলিপুরদুয়ারে বিন্দিপাড়াতে শহিদ বিপুল রায়ের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে আসেন সস্ত্রীক রাজ্য পাল জগদীপ ধনকর। রাজ্যপালের সঙ্গে একই হেলিকপ্টারে আসেন আর্মির লেফ্টেন্যান্ট জেনারেল অনিল চৌহানও।
নির্ধারিত সময়ের প্রায় ২০ মিনিট আগেই এদিন আলিপুরদুয়ার শহরের প্যারেড গ্রাউন্ডে রাজ্যপালের হেলিকপ্টার নামে। সকাল ৮ টা ৫৪ মিনিটে প্যারেড গ্রাউন্ডে নেমে সেখান থেকে সেনা বাহিনীর কনভয়ে সরাসরি বিন্দিপাড়ায় শহিদ বিপুল রায়ের বাড়ি যান রাজ্যপাল। প্রায় ৪০ মিনিট শহিদ পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন।
তারপরেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাজ্যপাল। তিনি বলেন, ‘‘বীরভূম ও আলিপুরদুয়ারের শহিদ পরিবার নিয়ে আমি কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে কথা বলেছি। দুই পরিবারের একজন করে সদস্যের গ্রুপ সি চাকুরি অনুমোদন করেছে কেন্দ্র। শহিদ বিপুল রায়ের স্ত্রীকে সাড়ে পাঁচ লক্ষ টাকা ও শহিদের মায়ের হাতে সাড়ে পাঁচ লক্ষ টাকা মোট ১১ লক্ষ টাকার চেক তুলে দিয়েছি। এই অর্থ খুবই সামান্য। দেশের জন্য সর্বোচ্চ এই বলিদান সহজ বিষয় নয়। সেই কারণে সেনাবাহিনীর লেফ্টেন্যান্ট জেনারেলও আজ ছুটে এসেছেন।’’
এরপরেই তিনি বলেন, ‘‘খুশির খবর দেশ এগোচ্ছে। দেশের প্রাচীন গৌরব ফিরে আসতে দেখা যাচ্ছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে স্থান পাচ্ছেন। ভারতের এই অগ্রগতিতে পশ্চিমবঙ্গের গুরুত্ব কম নয়। সেই কারণে পশ্চিমবঙ্গের প্রজাতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কোনও কালি লাগতে দেব না।’’
প্রায় একঘণ্টা সময় বিপুল রায়ের বাড়িতে কাটানোর পর ফের সড়কপথে প্যারেড গ্রাউন্ডে এসে সেখান থেকে হেলিকপ্টারে করে বাগডোগরা ফিরে যান সস্ত্রীক রাজ্যপাল। এদিন রাজ্যপালের যাত্রাপথে তাঁকে ধিক্কার জানিয়ে ব্যানার লাগিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। আলিপুরদুয়ারের তৃণমূল বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী বলেন, ‘‘জুন মাসে শহিদ হয়েছেন আমাদের গর্ব বিপুল রায়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিপুল রায়ের স্ত্রীকে চাকরি দিয়েছেন। তিনি কাজেও যোগ দিয়েছেন। রাজ্য সরকার পাঁচ লক্ষ টাকার চেক শহিদ পরিবারের হাতে তুলে দিয়েছে। প্যারেড গ্রাউন্ডে শহিদ বিপুল রায়ের মূর্তি তৈরি করেছি আমরা। রাজ্যপাল এতদিন কোথায় ছিলেন? সেই কারণে রাজ্যপালের এই সফরকে ভাল চোখে দেখছেন না এলাকার মানুষ।’’
তবে জানা গিয়েছে শহিদ বিপুল রায়ের ভাই বকুল রায় এদিন লিখিতভাবে রাজ্যপালের কাছে কেন্দ্রীয় সরকারের চাকুরির জন্য আবেদন করেছেন। গত ১৫ ই জুন ভারত-চিন সীমান্তের লাদাখে কুড়িজন ভারতীয় সেনা শহিদ হন। তাঁদের মধ্যেই একজন আলিপুরদুয়ারের বিপুল রায়।