দ্য ওয়াল ব্যুরো, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: বসবাসের ছোট্ট একচিলতে ঘরের ঘুলঘুলি দিয়ে রোদের আলো ঢুকতে পারে না। দিন আনি দিন খাই পরিবারে পড়াশোনার ন্যুনতম সুযোগসুবিধা না পেলেও সেই ঘরে বসেই উচ্চশিক্ষিত হওয়ার স্বপ্ন দেখে মাজেদা খাতুন। সম্প্রতি বাড়ির লোক বিয়ে ঠিক করে ফেলেছিল তার। পড়াশোনা করে আরও এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে নিজের বিয়ে নিজেই ভেঙে দিল উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। এমনকী বিডিওর হাতে ফিরিয়ে দিল রূপশ্রীর চেকও।
ফলতার শতলকলসা গ্রামে বাড়ি মাজেদার। শতলকলসা হাইস্কুলে পড়াশোনা করে মাজেদা। এবার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দেবে সে। মাজেদার বাবা আলি হোসেন মল্লিক আরবে মজুরের কাজ করেন। বাড়িতে রয়েছে মা আবেদা বিবি ও ছোট্ট একটি ভাই। আর্থিক সংকটের মধ্যেই বড় হয়ে ওঠা মাজেদার। বাবা বাইরে। পড়াশোনার পাশাপাশি পরিবারের সমস্ত কাজকর্ম মার হাতে হাতে করতে হয় তাকেই। বরাবরই মাজেদা স্বপ্ন দেখে উচ্চশিক্ষিত হয়ে সমাজের পাশে দাঁড়াবে সে।
কিন্তু গ্রাম বাংলার আরও অনেক মেয়ের মতো পাশ করার আগেই শুরু হয়ে যায় তাঁর বিয়ের জোগাড়। পাত্র পছন্দ হতেই শুরু হয়ে গিয়েছিল সমস্ত তোড়জোড়। বিয়ের দিন ঠিক করা, লোকজন নিমন্ত্রণ ও যাবতীয় পরিকল্পনা সেরে ফেলেছিলেন পরিবারের লোকজন।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁদের সমস্ত আশায় জল ঢেলে বেঁকে বসল মেয়ে। প্রথমে পরিবারের চাপে বিয়েতে রাজি হলেও পরে মাজেদা সিদ্ধান্ত নেয় এখন সে বিয়ে করবে না। আগামীদিনে উচ্চশিক্ষিত হয়ে পরিবারের পাশে দাঁড়াতে চায় সে। মাজেদার পাশে দাঁড়ান ফলতা পঞ্চায়েত সমিতির শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ আতিকুল্লাহ মোল্লা।
মাজেদার বিয়ের জন্য তোলা হয়েছিল রূপশ্রী প্রকল্পের টাকা। মাজেদা নিজে সেই টাকা তুলে দেন ভিডিও সন্দীপ ঘোষের হাতে। তার এমন অদম্য মনোভাব দেখে খুশি ব্লক প্রশাসন। আগামী দিনেও তার পড়াশোনার ক্ষেত্রে যে কোনওভাবে পাশে দাঁড়াতে চান তারা। প্রয়োজনে আর্থিক সহযোগিতার আশ্বাসও দেন বিডিও সন্দীপ ঘোষ।
বিয়ে ভাঙতে পেরেছেন। এখন নতুন উদ্যোমে সামনের দিকে তাকাতে চান শতলকলসা গ্রামের মাজেদা খাতুন।