দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: লকডাউনে শুনশান রাস্তা। তারই সুযোগ নিয়ে চোখের নিমেষে মোটরবাইক নিয়ে চম্পট দিল প্রতারক। দিনদুপুরে ক্রেতা সেজে এসেছিল ওই দুষ্কৃতী। দেড় লাখি মোটরবাইক খুইয়ে এখন হাত কামড়াচ্ছেন গুসকরা শহরের বাসিন্দা বিশ্বজিৎ বারুই নামের ওই মোটর মেকানিক।
গুসকরা পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংহতিপল্লিতে বাড়ি বিশ্বজিতের। পেশায় মোটর মেকানিক বিশ্বজিতের গ্যারাজ রয়েছে গুসকরা শহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে। তাঁর বাবা পরিমল বারুইও একজন মোটর মেকানিক। পাওয়ার হাউসপাড়ায় ২ বি জাতীয় সড়কের পাশে দু’জনে মিলে এই গ্যারাজ চালান।
বিশ্বজিত জানান, তিনি বছর দেড়েক আগে শখ করে একটি ইয়ামাহা আর ওয়ান এফ (ভারসন ৩) মডেলের মোটরবাইক কেনেন। দাম পড়েছিল ১ লক্ষ ৬৪ হাজার টাকা। এখন নতুন মডেলের মোটরবাইক কিনতে চান। তাই মাস চারেক আগে পুরোন মোটরবাইকটি বিক্রি করতে চেয়ে ওএলএক্স-এ বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন। লকডাউন চলায় এতদিন কেউ যোগাযোগ করেননি। বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টা নাগাদ এক অপরিচিত যুবক মোটরবাইকটি কেনার জন্য আসে।
বিশ্বজিৎ বলেন, ‘‘গাড়িটি দেখার পর ওই ক্রেতা মোটরবাইকে চালিয়ে দেখতে চায়। আমি তার হাতে বাইকের চাবি দেই। এরপর পিছনে বসি। সে গ্যারেজ থেকে স্কুলমোড় পর্যন্ত চালিয়ে আবার গ্যারেজে চলে আসে। তারপর কথাবার্তা বলতে বলতে ফের একা মোটরবাইক চালিয়ে দেখার অনুরোধ করেন। অনেকেই পুরানো গাড়ি কেনার সময় দেখতে চান। আমি তাই বিশ্বাস করে চালাতে দেই।’’
বিশ্বজিতবাবু জানান, দ্বিতীয় দফায় মোটরবাইক নিয়ে পাওয়ারহাউসপাড়া থেকে ওই যুবক রটন্তীকালীতলার দিকে যান। তারপর দশ মিনিট পার হয়। কুড়ি মিনিট যায়। কিন্তু আর ফিরে আসেনি সে। প্রায় আধঘণ্টা পর বিশ্বজিৎ তাঁর এক বন্ধুর মোটরবাইকে চেপে রাস্তায় রাস্তায় চক্কর কেটে বেড়ান। ওই যুবককে না পেয়ে শেষে গুসকরা পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে অভিযোগ জানান।
গুসকরা ফাঁড়ির পুলিশ জানিয়েছে, ওই প্রতারককের হদিস করতে আশপাশের থানাগুলিকেও জানানো হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত ওই দুষ্কৃতীর খোঁজ মেলেনি।