শুরু হয়েছে উচ্চমাধ্যমিক, হাতির ভয়ে পাহারা দিয়ে পরীক্ষার্থীদের সোনামুখীর জঙ্গল পার করালেন বনকর্মীরা
দ্য ওয়াল ব্যুরো, বাঁকুড়া : প্রতিপদে জড়িয়ে রয়েছে অনেক সমস্যা। তার মধ্যে হাতির হামলাও। কখনও জমিতে বহু শ্রমের ফসল নষ্ট করে দিচ্ছে হাতির পাল। কখনও আসা যাওয়ার পথে প্রাণ নিয়ে টানাটানি। এই সব নিয়েই বাস মুশলো, মাণিকবাজার, পাথরমোড়া, খয়ড়াশুলি, কোচড
শেষ আপডেট: 12 March 2020 07:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো, বাঁকুড়া : প্রতিপদে জড়িয়ে রয়েছে অনেক সমস্যা। তার মধ্যে হাতির হামলাও। কখনও জমিতে বহু শ্রমের ফসল নষ্ট করে দিচ্ছে হাতির পাল। কখনও আসা যাওয়ার পথে প্রাণ নিয়ে টানাটানি। এই সব নিয়েই বাস মুশলো, মাণিকবাজার, পাথরমোড়া, খয়ড়াশুলি, কোচডিহি মতো প্রান্তিক গ্রামগুলির বাসিন্দাদের। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার দিনগুলি অন্তত এই ঝুঁকি থেকে মুক্ত হয়ে পরীক্ষা দিতে যাক পরীক্ষার্থীরা। সেই ভাবনা থেকেই বৃহস্পতিবার পাশে থেকে পরীক্ষার্থীদের সোনামুখীর জঙ্গল পার করিয়ে দিলেন বনকর্মীরা।
বাঁকুড়ার সোনামুখী, বড়জোড়া রেঞ্জে বারোমাসই আনাগোনা থাকে হাতির। রেসিডেন্সিয়াল কিছু হাতির পাশাপাশি দলমা থেকে আসা হাতির পালও দাপিয়ে বেড়ায় জঙ্গল ও লাগোয়া এলাকা। সোনামুখী ব্লকের পাথরমোড়া উচ্চ বিদ্যালয়, ধনসিমলা উচ্চ বিদ্যালয়, ও পাত্রসায়রের বীরসিংহ উচ্চ বিদ্যালয়ে এ বার উচ্চমাধ্যমিকের সিট পড়েছে মুশলো, মাণিকবাজার, পাথরমোড়া, খয়ড়াশুলি, কোচডিহি গ্রামের প্রায় দেড়শো ছাত্রছাত্রীর। প্রতিদিন সোনামুখীর জঙ্গলের ভিতর দিয়ে প্রায় ছ’কিলোমিটার রাস্তা পার হয়ে স্কুলগুলিতে পৌঁছতে হয় তাদের।

অন্য সময় হাতির আতঙ্ক মাথায় নিয়ে জঙ্গল পেরিয়ে স্কুলে গেলেও পরীক্ষার সময় যাতে এর থেকে তাদের মুক্তি দেওয়া যায়, তারজন্য এগিয়ে এল বনদফতর। আজ থেকে শুরু হয়েছে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা। এ দিন সকালে পরীক্ষার্থীদের পাহারা দিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দিলেন বনদফতরের কর্মী-আধিকারিকরা। পরীক্ষার ক’দিন ছাত্র ছাত্রীদের নিরাপদে স্কুলে পৌঁছে দেওয়া ও বাড়ি ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব তাঁদের বলে জানালেন দফতরের আধিকারিকরা।
সোনামুখীর রেঞ্জ অফিসার দয়াল চক্রবর্তী বলেন, “এই মুহূর্তে বড়জোড়ায় হাতি থাকলেও, সোনামুখীতে নেই। তবে যে কোনও সময় ঢুকে পড়তে পারে। তাই আগাম সতর্ক আমরা। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময় যাতে ছাত্রছাত্রীদের মনে হাতির ভয় না থাকে তারজন্যই ওদের পাহারা দিয়ে জঙ্গল পার করার ব্যবস্থা করেছি আমরা।”
“হাতির ভয় নিয়েই তো প্রতিদিন দলবেঁধে জঙ্গল পার হয়ে স্কুলে যাই আমরা। পরীক্ষার ক’দিন যদি এই ভয় না পেতে হয় তাহলে তো বেঁচে গেলাম।” বলছে পরীক্ষার্থীরাও।