দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: ফের গরুমারা জাতীয় উদ্যানে মিলল একটি গন্ডারের দেহ। মঙ্গলবার বিকেলে জঙ্গলে টহলদারির সময় বামনি ওয়াচ টাওয়ারের কাছে একটি গন্ডারের দেহ পড়ে থাকতে দেখেন নিরাপত্তারক্ষীরা। এই নিয়ে গত তিন মাসে তিনটি গন্ডারের মৃত্যু হল গরুমারায়। ডিসেম্বরে দুটি গন্ডারের দেহ মিলেছিল এই অভয়ারণ্যে।
গত কয়েক বছরে চোরাশিকারিদের লোভের বলি হয়েছে গরুমারার একাধিক গন্ডার। তবে ডিসেম্বর মাসে সঙ্গিনীর অধিকার নিয়ে পুরুষ গন্ডারদের মারপিটের জেরেই দু’টি গন্ডারের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছিলেন বনাধিকারিকরা। মঙ্গলবারের ঘটনাও তারই পুনরাবৃত্তি বলে মনে করছেন তাঁরা। এরপরেই গরুমারার জঙ্গলে মারকুটে গন্ডার হিসেবে চিহ্নিত টারজানকে আইসোলেশনে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিল বনদফতর।
রাজ্যের বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ফের গরুমারার জঙ্গলে ইনফাইটিং এর জেরে গন্ডারের মৃত্যুর খবর পেয়ে দফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সেখানেই সিদ্ধান্ত হয়েছে জঙ্গলের সবথেকে মারকুটে পুরুষ গন্ডার টারজানকে নির্দিষ্ট ঘেরাটোপে বন্দি করা হবে।
বনদফতর সূত্রে খবর, গত ডিসেম্বর মাসে সঙ্গিনীর দখল নিয়ে লড়াইয়ের মুখে পড়ে মারা যায় ঘাড়মোটা ও বোতল সিং নামে গরুমারার জঙ্গলের দুই গন্ডার। তারা দুজনেই গরুমারার সবথেকে মারকুটে গন্ডার টারজানের হামলার নিশানা হয়েছিল। মঙ্গলবার ফের একটি গন্ডারের দেহ মেলে গরুমারার বামনি ওয়াচ টাওয়ারের কাছ থেকে। এ ক্ষেত্রেও ঘাতক গন্ডার হিসেবে টারজানকেই চিহ্নিত করেছেন বনকর্তারা। তারপরেই বৈঠকে বসে টারজানকে আইসোলেশনে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “মারকুটে গন্ডারটির বিচরণের জন্য গরুমারায় আলাদা অঞ্চল চিহ্নিত করা হবে। এ বার থেকে নির্দিষ্ট ঘেরাটোপেই রাখা হবে তাকে।”
এই মুহূর্তে গরুমারা জাতীয় উদ্যানে মোট গন্ডার রয়েছে ৪৯টি। এরমধ্যে পুরুষ গন্ডার ২১টি ও স্ত্রী গন্ডার ১৭টি। বাকিগুলি শাবক। স্ত্রী গন্ডারের থেকে পুরুষ গন্ডারের সংখ্যা বেশি হওয়ায় গরুমারার জঙ্গলে ইন ফাইটিং চলতেই থাকে। এবং সঙ্গিনী দখলের লড়াইয়েও বারবার উঠে আসছে মারকুটে গন্ডার টারজানের নাম। তাই তাকে আলাদা করে দিয়ে গন্ডারদের সংসারে শান্তি ফেরানোর এই উদ্যোগ।