দ্য ওয়াল ব্যুরো, আলিপুরদুয়ার : দু’দিনের মধ্যে দু’টি গন্ডারের মৃত্যু ও একটি অসুস্থ গন্ডারের খোঁজ মেলায় উদ্বেগ ছড়াল জলদাপাড়ায়। তিনটি ক্ষেত্রেই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে মৃত গণ্ডারদের টিস্যু ও রক্ত পরীক্ষার জন্য কলকাতার বেলগাছিয়ার ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। পাঠানো হয়েছে উত্তরপ্রদেশের বেরিলিতেও।
এই ঘটনার জেরে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের দু’টি ফরেস্ট বিটকে বিচ্ছিন্ন করে রাখারও উদ্যোগ নিল বনদফতর। জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের শিশামারা ও মালঙ্গি এই দুই বিটকে বিচ্ছিন্ন রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। জাতীয় উদ্যানের অন্য এলাকা থেকে বন্যপ্রাণীরা যাতে এই দুই বিটে ঢুকতে না পারে তার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এই দুই এলাকায় থাকা বন্যপ্রাণীদের অন্য এলাকায় যেতে দেওয়া হচ্ছে না।
বুধবার জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের শিশামারি জঙ্গল লাগোয়া গ্রাম সিধাবাড়িতে একটি গন্ডারকে অসুস্থ অবস্থায় দেখতে পান এলাকার মানুষ। একটি শাবককেও দেখতে পান তাঁরা। খবর পেয়ে তড়িঘড়ি জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান থেকে বনদফতরের বিশেষজ্ঞদের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়। প্রথমে গন্ডারের শাবকটিকে উদ্ধার করে নিয়ে যায় বন দফতর। এরপর অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকা মা গণ্ডারকে ঘুমপাড়ানি গুলি করে কাবু করে শুরু হয় চিকিৎসা। কিন্তু আশপাশে গ্রামবাসীদের ভিড়ে চিকিৎসা ব্যাহত হওয়ায় ক্রেনে করে বিশাল আকার গন্ডারকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় জাতীয় উদ্যানের ভেতরে। পরে সেখানে মারা যায় গন্ডারটি।
কিছুক্ষণ পরে জঙ্গলের ভিতর থেকে উদ্ধার হয় আরও একটি স্ত্রী গন্ডারের দেহ। রাজ্যের বন্যপ্রাণ বিভাগের প্রধান মুখ্য বনপাল রবিকান্ত সিনহা জানান, গন্ডারের খড়্গ অবিকৃত থাকায় এটিও অসুস্থতাজনিত মৃত্যু বলেই মনে করছেন তাঁরা। বুধবারের জের কাটতে না কাটতে বৃহস্পতিবার সকালে ফের একটি অসুস্থ গন্ডারের খোঁজ মেলে জলদাপাড়ার জঙ্গলে। তড়িঘড়ি সেটির চিকিৎসা শুরু হয়।
এরইমধ্যে বৃহস্পতিবার সকালে পূর্ণবয়স্ক একটি দাঁতাল হাতির মৃতদেহ উদ্ধার করল বনদফতর। মাদারিহাটের বীরপাড়া ব্লকের দলমোরের জঙ্গল থেকে দেহটি উদ্ধার করা হয়। এই জঙ্গলও জলদাপাড়ারই লাগোয়া।
দু’দিনের মধ্যে পরপর বন্যপ্রাণের অসুস্থতা ও মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বিগ্ন বনদফতর। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এদিনই অরণ্যভবনে আধিকারিকদের নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেন বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে মন্ত্রী বলেন, “দুই মৃত গণ্ডারের টিসু ও রক্তের নমুনা বেলগাছিয়া ও বেরেলির ল্যাবে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এছাড়া জলদাপাড়ার যে দুই বিট এলাকায় মৃত ও অসুস্থ গণ্ডারের হদিশ পাওয়া গেছে সেই দুই এলাকাকে বিচ্ছিন্ন রাখা হচ্ছে।”